
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে সরকার। প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানি করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি ও দেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে নতুন নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য নিয়েও কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের পরিধি বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের আহ্বান
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হলেও এই সংকট বাংলাদেশ সৃষ্টি করেনি।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন পক্ষ ও গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের স্বার্থ জড়িত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক এই জটিলতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন নিয়েও অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এ অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার ঘোষণার চার দশক, ডারবান ঘোষণার রৌপ্যজয়ন্তী, জলবায়ু পরিবর্তন, অতিমারি প্রতিরোধ এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় আলোচনায় আসবে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এটি দেশের জন্য নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার একটি সুযোগ।
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি তুলে ধরার পরিকল্পনা
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের যে গল্প তুলে ধরা হচ্ছে, তা বিশ্ব দরবারে উপস্থাপনের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে বিশ্বমঞ্চে দেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্ভাবনা কীভাবে তুলে ধরা যায়—এসব বিষয় এবারের অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, গুম সংক্রান্ত কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন এবং ব্র্যাক ব্যাংকের সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান।
স্বদেশ প্রতিদিন/আরএম