
চলমান আমন মৌসুমে সারের চাহিদা পূরণ এবং সম্ভাব্য সংকট এড়াতে আরও ৭০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩০ হাজার টন টিএসপি সার কেনা হবে।
বুধবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এসব সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার আমদানি করা হবে। প্রতি টনের দাম পড়বে ৮৯৪ মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে এই সার কিনতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে ডিএপি সারের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ডিএপির গড় আন্তর্জাতিক মূল্য ছিল প্রতি টন ৭৮১ ডলার। এর আগে গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় কমিটির বৈঠকে প্রতি টন ৮৯১ ডলার দরে ডিএপি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, মরক্কো থেকেই ৩০ হাজার টন টিএসপি (ট্রিপল সুপারফসফেট) সার কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রতি টন টিএসপির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬৯ দশমিক ৩৩ ডলার।
ডিএপির দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে টিএসপির দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে টিএসপির গড় মূল্য ছিল প্রতি টন ৭১৯ ডলার। সেই তুলনায় এবার যে দরে টিএসপি কেনা হচ্ছে, তা কিছুটা কম।
আমন মৌসুমে কৃষকদের সারের চাহিদা নির্বিঘ্নে পূরণ করতে সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য সংকট এড়াতে শুধু আগস্টের শেষ দুই সপ্তাহেই বিভিন্ন ধরনের ৪ লাখ ৮০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমন ও বোরো মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট চাল উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি আসে এই দুই মৌসুম থেকে। এসব মৌসুমে কৃষকদের প্রয়োজন হয় ৪৩ লাখ টনের বেশি রাসায়নিক সার।
দেশে বছরে মোট প্রায় ৬৬ লাখ টন সার ব্যবহার করা হয়। এর প্রায় ৭৫ শতাংশই ধান চাষে ব্যবহৃত হয়। ফলে ধান উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বাংলাদেশের সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন বা বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের কৃষি খাতে প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে আমন মৌসুমে আগাম সার আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে সরকার। পর্যাপ্ত সার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং দেশের চাল উৎপাদনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।