
রাশিয়ার ক্যামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ৩০ জুলাই শক্তিশালী ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা ২৫ মিনিটে এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামি সৃষ্টি হয়, এবং রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ প্রশান্ত মহাসাগরের আশেপাশের অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের তালিকা
১৯৬০- চিলি (ভালডিভিয়া): ৯.৫ মাত্রা, নিহত ১,৬৫৫ জন, প্রায় ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন।
১৯৬৪ - আলাস্কা: ৯.২ মাত্রা।
২০১১ - জাপান (গ্রেট তোহোকু): ৯.০ মাত্রা, ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয় ডেকে আনে।
২০০৪ - সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া: ৯.১ মাত্রা।
১৯৫২ - ক্যামচাটকা, রাশিয়া: ৯.০ মাত্রা, হাওয়াইতে সুনামির কারণে বড় ক্ষতি।
২০১০ - চিলি: ৮.৮ মাত্রা।
১৯০৬ - ইকুয়েডর উপকূল: ৮.৮ মাত্রা।
এই তালিকায় ৩০ জুলাই ক্যামচাটকা ভূমিকম্প এখন ষষ্ঠ শক্তিশালী হিসেবে স্থান পেয়েছে।
ভূমিকম্প ও সুনামি সম্পর্ক
পৃথিবীর বাইরের স্তর বা ক্রাস্ট বহু টুকরো বা টেকটোনিক প্লেট নিয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলো ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। কখনো কখনো তাদের অংশ আটকে যায় এবং সেখানে দীর্ঘ সময় চাপ জমে থাকে। চাপ অনেক বেড়ে গেলে প্লেট ঝাঁকুনি বা পিছলে যায়, যা ভূমিকম্পের সময় বিপুল শক্তি নির্গত করে।
যদি ভূমিকম্প সমুদ্রের নিচে হয়, তবে স্থানচ্যুতির কারণে পানির একটি বড় অংশ উপরের দিকে ঠেলাপাঠে চলে যায়। এটাই সুনামি সৃষ্টি করে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ হেলেন জানিশেভস্কি বলেছেন, সুনামির ঢেউ কখনও কখনও জেট বিমানের গতিতে ছুটে চলে।
সব ভূমিকম্পে সুনামি আসে না
যুক্তরাষ্ট্রের এনওএএ তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ৮ মাত্রার বেশি না হলে দূরবর্তী সুনামির ঝুঁকি কম থাকে। সুনামির আকার নির্ধারণ করে:
সমুদ্রতলের স্থানচ্যুতি
ভূমিকম্পের আয়তন
ভূমিকম্পের গভীরতা
এছাড়া, পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ১০০ কিমি বা ৬২ মাইলের কম গভীরতায় ভূমিকম্প হলে বড় সুনামি তৈরি হতে পারে। গ্লোবাল হিস্টোরিক্যাল সুনামি ডাটাবেইস অনুযায়ী, ৮৯% সুনামি বড় ভূমিকম্প বা ভূমিকম্প-সৃষ্ট ভূমিধসের কারণে হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম