আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার একমাত্র হাজিরা-দেওয়া আসামি ছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আগেই নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় তাকে বিমর্ষ মুখে নিরবভাবে আদালতের বক্তব্য শুনতে দেখা গিয়েছিল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে কারাগার থেকে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছিল।
রায় ঘোষণার বিষয়টি সরাসরি সম্প্রচার করেছে বিটিভি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। ট্রাইব্যুনালের সরকারি ফেসবুক পেজেও লাইভ দেখানো হয়েছিল। পাশাপাশি ঢাকার দশটি স্থানে বড় পর্দায় রায় প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছিল। পুনর্গঠনের পর প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল ১৭ অক্টোবর বিচারকার্য শুরু করেছিল। সেদিনই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আসামি করা হয়েছিল। মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনজনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে, উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনা।
৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে খোকন চন্দ্র বর্মণ জুলাই–অগাস্টের নৃশংস ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন। গত ৮ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
এরপর ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য দিন ঠিক করা হয়েছিল, আর ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।