
মো. জুবায়ের আল মাহমুদ
একটি টকশোতে দেখলাম, এক বক্তা বলছেন, ''মুগ্ধ বিএনপিতে কিসের ভিত্তিতে যোগ দিলো? কোটায় না মেধায়? ভাইয়ের জীবনই তার যোগ্যতা, মানে সে কোটায় বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দিলো। তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটায় কি সমস্যা ছিল? কথা তো একই।''
শুরুতে ওই বক্তার উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলি। জনাব, টকশো কোন বিতর্কের মঞ্চ নয়। বিতর্ক অনুষ্ঠানের বাচ্চারাও আপনার মতো করেই যুক্তি উপস্থাপন করে। যেকোনভাবে ঝগড়ায় জিততেই হবে। আপনি নিজেও তার্কিক ছিলেন বলেই এমন খোঁড়া যুক্তি দিচ্ছেন হয়তো। আর মাথা চিকন উপস্থাপকও কিছু না বুঝেই বক্তার বক্তব্যে সাঁয় দিলো। বললো, হ্যাঁ দুটোই কোটা।
জনাব, রাজনৈতিক দলে যোগ দেয়া আর চাকুরিতে কোটা থাকা বিষয়টি কি এক? বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করার পর এক পর্যায়ে তার মেয়ে দলের দায়িত্ব নেন, ওই বক্তাকে যদি প্রশ্ন করি শেখ হাসিনাও কি কোটায় দলে এসেছিলেন? কিংবা বেগম জিয়া অথবা আহসানুল্লাহ মাস্টারের ছেলে বা তাদের মতো পিতা বা নিকট আত্মীয়ের জীবন দানের পর যারা রাজনীতিতে এসেছেন তারা কি ছিল? কোটা না মেধা? আমি উপস্থাপক হলে এই প্রশ্নটি করতাম।
জনাব বক্তা, গলাবাজি করার আগে ভালো করে শুনুন, মায়ের ডাকের সানজিদা আর মুগ্ধকে দলে নিয়ে বিএনপি নিজেই সম্মানিত হয়েছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে যেসব দল ধারণ করে, তারা সকলেই মুগ্ধদের নিজেদের দলে নিয়ে সম্মান জানাতে চাইবেই। এটা কি দোষের কিছু? রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়াকে আপনি কিভাবে সরকারি চাকুরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সাথে তুলনা করলেন! দুটো কি আদৌ এক?
জনাব, সব জায়গায় মুক্তিযুদ্ধকে এনে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং আমাদের অহংকার মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করবেন না। কোন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশে কেউ কোনদিন প্রশ্ন তুলেনি। এমনকি সরকারি চাকুরিতেও মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরোধিতা কেউ কোনদিন করেনি। বরং যখন নাতিপুতিকেও কোটার আওতায় ফেলা হলো, তখনই কেবল প্রতিবাদ করেছে শিক্ষার্থীরা। সেটাও কোটা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার জন্য নয়, বরং ৫৬% কোটাকে সংস্কার করে যৌক্তিক পারসেন্টে নিয়ে আসার দাবী করা হয়েছিল। ১০০ জন পরীক্ষা দিলে ৫৬ জন চাকুরি পাবে কোটায়, আর ৪৪ জনের জন্য গোটা দেশের ২৬ লাখ বেকার লড়াই করবে, এটা সভ্য ছিল? এটা কি নিয়ম ছিল নাকি প্রথা?
জনাব বক্তা, কিসের সাথে কি মেলালেন আপনি!
টকশো আয়োজকদের বলছি, উনি কি হিসেবে টকশোতে আসেন? রাজনৈতিক দলের কর্মী, বুদ্ধিজীবী, নাকি বিতার্কিক হিসেবে? আমি যতদূর জানি, উনি ডাক্তার, তাহলে উনাকে ডাক্তারি পরামর্শমূলক অনুষ্ঠানে নিয়ে আসেন। উনি একসময় উপস্থাপনা করতেন, তাহলে উনাকে উপস্থাপক বানান।
যেকাউকে যখন তখন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বানাবেন না। বুদ্ধিজীবীরা কিংবা রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কখনোই একপাক্ষিক চিন্তা করে না, একটি দলের দিকেও টেনে কথা বলে না। কাজেই উনি বুদ্ধিজীবীও নন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকও নন। তাহলে উনি কি?
লেখক: গণমাধ্যম কর্মী
(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)