
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরেশোরে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেখানে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মাঠে নেমেছে জোরেশোরে, সেখানে তীব্র অন্তঃকোন্দলে জট বেধেছে বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলে। কয়েকদিন পর পর বিভিন্ন সভা, সেমিনার, মিটিং, মিছিল করে মাঠ গরম করে একদল অপর দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ ও পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার করায় কর্মী-সমর্থকদের পড়েছে বিভ্রান্তিতে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির বর্তমান বিভাজন অব্যাহত থাকলে আসনটি হারানোর ঝুঁকি বাড়বে। স্থানীয় সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন অনিশ্চয়তা বিএনপির ভোটব্যাংকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। এতে করে দলীয় ঐক্যের অভাবে বিএনপির ঘাঁটিতেই ভোটের ভাঙন দেখা দিতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থীকেই সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাঠে ময়দানে জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদ।
এদিকে বিএনপির এই কোন্দলটি সম্প্রতি ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে প্রকাশ্যে আসে। মহেশখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর ফরিদের অনুসারীদের মধ্যে বাগযুদ্ধ হয়। আলমগীর ফরিদ বলেন, ‘মনোনয়ন আমাকে দিয়েছে, নির্বাচন আমিই করবো’। এর জবাবে আবু বক্কর ছিদ্দিক হুঁশিয়ারি দেন, ‘আলমগীর ফরিদ মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের বিরুদ্ধেই নির্বাচন করবো’।
বিএনপির এই বিভক্তি ও প্রার্থীবাছাইয়ের অনিশ্চয়তার সুযোগে কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে আগেভাগেই সংগঠনগতভাবে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হামিদুর রহমান আজাদকে চূড়ান্ত করেছে।
অন্যদিকে, নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তরুণ ও শিক্ষিত রাজনীতিক এসএম সুজা উদ্দিনকে মহেশখালী-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার-২) আসনে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুত করেছে। নতুন উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি সরাসরি জয়ের প্রত্যাশা না করলেও এ আসনে তারা হাড্ডা লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সাধারণ সমর্থকরা হতাশ। ভোটারদের দাবি, “বিএনপি এক হলে কক্সবাজার-২ আসনে ধানের শীষ জিততে পারে।” অপরদিকে কুতুবদিয়ার তরুণ ভোটার রিয়াদ হোসেন মনে করেন, জামায়াত এখন সংগঠিতভাবে মাঠে আছে, তাদের প্রার্থী এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, যা অন্য দলগুলো করছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি যদি সময়মতো তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও নেতৃত্ব সংকট নিরসন করতে না পারে, তবে কক্সবাজার-২ আসনে দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গভীর সংকটে পড়বে। স্থানীয় পর্যায়ে আলমগীর ফরিদ ও আবু বক্কর ছিদ্দিকের প্রকাশ্য বিরোধ শুধু কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে না, বরং সাধারণ ভোটারদের আস্থাও কমিয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি এই ধরণের বিভক্তি অব্যাহত থাকলে জামায়াতে ইসলামীর সংগঠিত রাজনৈতিক তৎপরতা এবং এনসিপির কৌশলী অবস্থান বিএনপির জন্য আসন্ন নির্বাচনে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারেও বলে ভোটারদের আশঙ্কা।