| শিরোনাম: |

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাল সময়ে জিয়াউর রহমান একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার আগে তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বর রেডিও ভাষণে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতিবিদ নন, একজন সৈনিক।
কিন্তু ৭ নভেম্বরের ঘটনার পর তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে পৌঁছান। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ (১৯৬৫) এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার নেতৃত্ব ও বীরত্বের কারণে জনসাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার ‘জেড’ ফোর্স এবং চট্টগ্রাম রেডিও থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করা ইতিহাসে স্বীকৃত।
স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীতে সহকারীর দায়িত্বে থাকলেও জিয়ার সেনাপ্রধান হওয়ার কথা ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও সামরিক অভ্যুত্থানের জটিল পরিস্থিতিতে তাকে মুক্ত করা হয়। ৭ নভেম্বর প্রথম প্রহরে সৈনিক-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার কাছাকাছি আসেন।
তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার পরিচালনার নেতৃত্ব নেন।
জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনের মূল ছিল জাতীয়তাবাদ, যেখানে সব অঞ্চলের মানুষের জন্য ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। তার নেতৃত্বে বহুদলীয় ব্যবস্থা চালু হয়, অর্থনীতি পুনর্গঠন করা হয় এবং জনশক্তি রপ্তানি, পোশাক শিল্প ও রপ্তানি ব্যবস্থা শুরু হয়, যার সুফল আজও বাংলাদেশ ভোগ করছে।
জিয়াউর রহমান সৎ ও পরিশ্রমী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন জিয়া। তার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ