শনিবার ● ৭ নভেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● এনসিপিতে ভাঙনের সুর      ● থমকে গেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত      ● জামানতের ভুয়া মূল্যায়নে বন্ধ হচ্ছে ঋণের দরজা      ● যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করব : প্রধানমন্ত্রী      ● ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ঢাকায় ৫৫৫ জন গ্রেপ্তার      ● রাজধানীতে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশুসহ আহত ৩      ● ঘুম থেকে উঠার পর শুকিয়ে যাচ্ছে মুখ, যে সংকেত দিচ্ছে শরীর      ● ‘সরকারকে যারা ব্যর্থ করতে চাইবে, তাদেরকেই ব্যর্থ করে দেওয়া হবে’      ● পাইকগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত      ● বিয়েতে আগ্রহ হারাচ্ছে চীনারা      ● ভাঙ্গুড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত      ● পঞ্চগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত      
এনসিপিতে ভাঙনের সুর
জামায়াত ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বিস্ফোরণ
আবদুর রহিম
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) একের পর এক নেতার পদত্যাগ, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা এবং নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার ঘটনায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতার সিদ্ধান্ত ঘিরে দলের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। 

কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা পদ ছাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলত্যাগের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে প্রতিষ্ঠার এক বছরের মধ্যেই এনসিপিতে ভাঙনের সুর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নানা কারণে ইতিমধ্যে দলটির প্রায় শীর্ষ ৪৫ নেতা দল ছেড়েছেন। দলটির নির্ভরযোগ্য শীর্ষ নেতারা বলছেন, জামায়াত ইস্যুতে আগামীতে আরও বড় সংখ্যক নেতাকর্মী দল ত্যাগ করে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনসিপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নেতারা ভালো সময়ে দল ভাঙ্গার ইসুতে চাপ অনুভব করছে। 

সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি জামায়াতের সঙ্গে সখ্যতা, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের ঘাটতি, নারী নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়া এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ মাস ধরে দলের ভেতরে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, প্রস্তাব ও পরিবর্তনের চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এর আগে দলীয় রাজনৈতিক পরিষদ থেকেও তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর ঘোষিত কমিটিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের পরিবর্তে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টিও তাঁর অসন্তোষের কারণ হিসেবে আলোচনায় আসে।

সামান্তা শারমিনের আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব চিকিৎসক তাসনিম জারা পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরদিন যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও দল ছাড়েন। তাঁদের পদত্যাগের পেছনেও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আপত্তির বিষয়টি আলোচনায় আসে।

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার সিদ্ধান্ত ঘিরে অসন্তোষ শুধু কয়েকজন নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রায় ৩০ জন নেতা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নেতৃত্বের কাছে চিঠি দেন বলে জানা যায়। এ ছাড়া যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন এবং যুগ্ম প্রধান সমন্বয়কারী খান মুহাম্মদ মুরসালিনও পদত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়, দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও জোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়েই মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির আকার কমে আসার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে দলটির আত্মপ্রকাশের পর ২ মার্চ ২১৭ সদস্যের প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকায় সদস্যসংখ্যা দেখা যায় ১৭২। অর্থাৎ প্রথম কমিটির তুলনায় তালিকায় সদস্য কমে যায় ৪৫ জন। নানা ইস্যুতে  এক বছরে ৪৫ জন নেতার পদত্যাগে দলটির ভেতরে চিন্তার কারণ হযে দাঁড়িয়েছে।

এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দলটির সাংগঠনিক অবস্থান ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে নেতারা পদ ছেড়েছেন। গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান সংগঠক অলিক মৃ খাগড়াছড়ির সহিংসতার ঘটনায় দলের নীরবতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ৩০ নভেম্বর দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মুহাম্মদ রাকিব ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি ও সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ এনে দল ছাড়েন। এসব পদত্যাগের কারণ এক না হলেও দলটির ভেতরে অসন্তোসের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

এনসিপি ছেড়ে কেউ কেউ অন্য রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছেন, আবার কেউ নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি মীর আরশাদুল হক বিএনপিতে যোগ দেন। আরিফ সোহেল ও খান মুহাম্মদ মুরসালিন ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হন। অন্যদিকে অনিক রায়, তুহিন খান, অলিক মৃ ও সৈয়দা নিলীমা দোলা ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন’ (এনপিএ) নামে একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাসনিম জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে দলটির নেতৃত্ব পদত্যাগ ও দলত্যাগের ঘটনাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছে না।

 এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক দলে যোগদান, পদত্যাগ কিংবা বহিষ্কার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। একটি নতুন রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিকভাবে পরিণত হতে সময় দিতে হয়। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বলেছেন, জোটের সিদ্ধান্তের কারণে কেউ কেউ দল ছেড়েছেন; তবে তাঁদের জন্য দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি।

দলটির অন্য নেতারা বলছেন, এনসিপির বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, দলটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সাংগঠনিক ঐক্য কতটা ধরে রাখতে পারবে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর তরুণ নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে দলটির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু একের পর এক পদত্যাগ, নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ এবং জোটের রাজনীতি নিয়ে বিভক্তি সেই প্রত্যাশাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সামনে দলটি অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য মিটিয়ে সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, নাকি এই বিভক্তি আরও বিস্তৃত হবে—তা নির্ভর করছে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশলের ওপর।






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close