প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৯ AM

সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেটিং অ্যাপ বললেই টিন্ডার কিংবা বাম্বলের নামই প্রথমে আসে। তবে যেটিকে অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে বাদ দিতেন, সেই ফেসবুক ডেটিং এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে তরুণদের পছন্দের তালিকায়।
২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই ফিচার এতদিন আলোচনার বাইরে থাকলেও সম্প্রতি প্রথমবারের মতো এর ব্যবহারকারী পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে মেটা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফেসবুক ডেটিংয়ের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা ২ কোটি ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আর ইতোমধ্যেই সেবা চালু হয়েছে ৫২টি দেশে।
ফেসবুক ডেটিং আলাদা কোনো অ্যাপ নয়। এটি ফেসবুক অ্যাপের মধ্যেই সংযুক্ত একটি ফিচার। যেখানে ব্যবহারকারীরা সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। এমনকি কারও প্রোফাইলে ‘সিঙ্গেল’ স্ট্যাটাস না থাকলেও এই ফিচার ব্যবহার করা যায়।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তরুণদের মধ্যেও ধীরে ধীরে ফেসবুক ডেটিংয়ের ব্যবহার বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন প্রায় ১৭ লাখ ৭৭ হাজার। এটি এখনো টিন্ডার, বাম্বলের সমপর্যায়ে পৌঁছায়নি। কিন্তু বাড়তি আগ্রহ স্পষ্ট।
অ্যাপ অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিন্ডারের সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ৭৩ লাখ, হিঞ্জের ৪৪ লাখ, বাম্বলের ৩৬ লাখ এবং গ্রাইন্ডারের ২২ লাখ। তবুও গত এক বছরে ফেসবুক ডেটিংয়ে তরুণদের দৈনিক কথোপকথন বেড়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ, জানিয়েছে মেটা।
এই ফিচারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো- ফেসবুক ডেটিং সম্পূর্ণ বিনা খরচে ব্যবহার করা যায়। হিঞ্জ বা টিন্ডারের মতো এখানে পছন্দের ম্যাচ আনলক করতে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হয় না।
তুলনামূলকভাবে, ফেসবুক ডেটিংয়ের এই ফ্রি মডেল তরুণদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। অনেকেই বলছেন, অন্য অ্যাপের মতো ‘প্রিমিয়াম’ চাপ বা লুকানো খরচ না থাকায় এখানে যোগাযোগের সুযোগটা স্বচ্ছ ও স্বস্তিদায়ক।
যদিও এখনো এটি টিন্ডার বা বাম্বলের মতো প্রধানধারার ডেটিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তায় পৌঁছাতে পারেনি, তবুও ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে ও তরুণদের আগ্রহ যেমন বাড়তে দেখা যাচ্ছে— তা বলছে, প্রেম খোঁজার ডিজিটাল দুনিয়ায় ফেসবুক ডেটিং হতে পারে নতুন সম্ভাবনার নাম।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ