প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৫১ AM

পুরুষদের পর এবার নারীরাও লিখলেন ইতিহাস। ১৯৮৩ সালের ২৫ জুন কপিল দেবের হাত ধরে যেভাবে ভারত প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল, ঠিক ৪২ বছর পর সেই অর্জনের পুনরাবৃত্তি ঘটাল হারমানপ্রীত কৌরের নারী ক্রিকেট দল।
রবিবার (২ নভেম্বর) নাভি মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে ভারত।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৯৮ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্ট ভেজা মাঠের সুবিধা নিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতের দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা ঝড়ো সূচনা এনে দেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা মাত্র ১৭.৩ ওভারে ১০৪ রান যোগ করেন। মান্ধানা ৪৫ রান করে ফিরলেও শেফালি খেলেন ৭টি চার ও ২ ছক্কায় ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।
মাঝপথে হারমানপ্রীত কৌর (২০) ও আমানজোত কৌর (১২) দ্রুত ফিরলেও শেষদিকে দীপ্তি শর্মা (৫৮) ও রিচা ঘোষ (৩৪) ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলের রান তিনশোর কাছাকাছি নিয়ে যান। দীপ্তি শেষ বলে রানআউট হওয়ার আগে ৩ চার ও ১ ছক্কায় দারুণ ইনিংস খেলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আয়াবোঙ্গা খাকা ৩ উইকেট নেন।
২৯৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস শুরু থেকেই ভারতের স্পিনের কাছে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে অধিনায়ক লরা উলভার্ট একাই লড়াই চালিয়ে যান। তার ব্যাটে শতক (১০১) এলেও ৪২তম ওভারে দীপ্তি শর্মার বলে আমানজোত কৌরের অবিশ্বাস্য ক্যাচে তিনি ফেরেন—সেই মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
উলভার্ট আউট হওয়ার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে আরও একবার বড় মঞ্চে স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্রোটিয়া মেয়েরা।
বল হাতে ৫ উইকেট শিকার করে দীপ্তি শর্মা ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। শেফালি ভার্মা নেন ২ উইকেট।
এই জয়ে ইতিহাস গড়ল হারমানপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় নারী দল। পুরুষদের ১৯৮৩ সালের লর্ডস জয় যেমন ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা করেছিল, তেমনি এই জয় নারী ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় খুলে দিলো।
ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সময় ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর বলেন, “এই জয় শুধু আমাদের নয় এটি ভারতের সব মেয়ের জন্য, যারা বিশ্বাস করে স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে