
সুদানে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা।
রবিবার (২ নভেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কাজী মেহরাব তূর্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা সুদানের চলমান হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, আফ্রিকার এই দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বশক্তিগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে।
বাংলাদেশ ছাত্রশক্তি, জাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, “আমরা মনে করছি, সুদানকে ফিলিস্তিনের গাজায় পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। গাজার মানুষের পক্ষে বিশ্ব মানবতা যেমন কথা বলছে, সুদানের ক্ষেত্রে তেমন নীরবতা দেখা যাচ্ছে। আজ জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC) ও বিশ্ব মিডিয়ার নীরবতায় আরব আমিরাতের (UAE) ফান্ডিংয়ে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।”
আরব আমিরাতে বাংলাদেশের নাগরিকদের হয়রানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাসে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তারা এখনও কারাগারে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই অবিলম্বে তাদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং সুদানে চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে হবে।”
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, “সুদানে সরকারি বাহিনী ও আধাসামরিক দলগুলো ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালাচ্ছে। তারা নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের কিছু দেশ এবং ইউএইয়ের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তাদের আসল উদ্দেশ্য দেশের স্বর্ণ, ভূমি ও বন্দর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “সম্পদ ও ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করছে, শিশু ও নারীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালাচ্ছে, অথচ কোনো অনুশোচনা নেই। এই মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বয়কট করতে হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, “ধর্ম, জাতি বা বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে—এমন এক সময়ে আমরা মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। বিশ্বশক্তিগুলোর নীরবতা লজ্জাজনক। আমরা দাবি জানাই, সুদানে চলমান গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং হত্যাকারীদের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের আওতায় আনতে হবে।”
বক্তারা বিশ্ব মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বিশ্ববাসীকে সুদানের গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুদানে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের নৃশংস চিত্র ব্যাপকভাবে ভাইরাল হলেও বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ বা আলোচনার দেখা মেলেনি।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে