
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ গুছিয়ে আনছে বিএনপি। দলটির হাইকমান্ড ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের ৬টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন।
এর আগে তিনি যশোরের ৬ জন নেতাকে ফোন করে এমপি প্রার্থীর হয়ে মাঠে কাজ করতে বলেন। এবং যশোরের সব সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের নিয়ে একসঙ্গে ধানের শীষকে বিজয়ী করার নির্দেশনা দেন। সবাই তার নির্দেশনা মানবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র জানিয়েছে, যশোরের ৫টি আসনেই বিএনপির বিগত দিনের রাজপথে থাকা নেতাদের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক দেওয়া হবে। এ ছাড়া শুধু যশোর-৬ আসন থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণকে দল আপাতত বেছে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রটি নিশ্চিত করেছে এ নিয়ে অন্য এমপি পদপ্রার্থীরা মন খারাপ করলে তারেক রহমান সবাইকে মন খারাপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যশোর জেলার ছয়টি আসনে তারেক রহমানের ‘গুড বুকে’ রয়েছেন, যশোর-১ (শার্শা), এখানে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তিনি এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আগেও নির্বাচন করেছেন। এবারও তারেক রহমান তাকেই প্রতীক দিচ্ছেন বলে জানা যায়।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা), এই আসন থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষে লড়বেন সাবিরা নাজমুল মুন্নি। মনোনয়ন আলোচনায় তিনি এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা যায়।
যশোর-৩ (সদর), এই সংসদীয় আসনে সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক পাচ্ছেন বলে জানা যায়।
যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন), এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক পাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব। তিনি যশোর-৪ আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।
যশোর-৫ (মণিরামপুর), এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে লড়বেন দলের উপজেলা কমিটির সভাপতি শহীদ ইকবাল হোসেন। তিনি মণিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মণিরামপুর পৌরসভার দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন। দল থেকেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর), এখানে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। তাকেই দল বেছে নিচ্ছে বলে জানা যায়।
তবে ঢাকায় অবস্থান করছেন-মনোনয়ন প্রত্যাশী অন্তত জেলার ৩৫ জন নেতা। তারা হলেন-যশোর-১ (শার্শা): মফিকুল হাসান তৃপ্তি, আবুল হাসান জহির, নুরুজ্জামান লিটন, খায়রুজ্জামান মধু। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা): সাবিরা নাজমুল মুন্নি, জহুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইসহক, মোর্তজা এলাহী টিপু, মিজানুর রহমান খান, ইমরান সামাদ নিপুণ। যশোর-৩ (সদর): অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, দেলোয়ার হোসেন খোকন, মারুফুল ইসলাম। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): ফারাজী মতিয়ার রহমান, টিএস আইয়ুব, ব্যারিস্টার নূরে আলম সিদ্দিকী। যশোর-৫ (মণিরামপুর): অ্যাড. শহিদ ইকবাল হোসেন, আসাদুজ্জামান মিন্টু, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, শাহীন হোসেন, ইফতেখার সেলিম অগ্নি, তাজউদ্দিন। যশোর-৬ (কেশবপুর): আবুল হোসেন আজাদ, রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, অমলেন্দু দাস অপু।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্রিফিংয়ে যশোরের ছয়টি আসনের ৩৫ মনোনয়ন প্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেছেন। বৈঠকে সবাই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গীকার করেছেন। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশী যদি দলীয় নির্দেশনা না মানে, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/রাফি