
সংগৃহীত ছবি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদে থাকা সুপারিশ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদ পাস না করলে অটোমেটিক পাস হয়ে যাবে, এটা হাস্যকর। তিনি বলেন, পরীক্ষায় অটোপাসের মতো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যই এমন সুপারিশ করেছে। তবে আইনানুগ ও সাংবিধানিক ভিত্তি বিবেচনায় সরকার একটা সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করি।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অটোপাসের মতো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না, এটি অযৌক্তিক ও হাস্যকর। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দায়মুক্তি পাওয়ার জন্যই এমন প্রস্তাব করেছে। তবে আশা করি সরকার আইনানুগ ও সাংবিধানিক ভিত্তি বিবেচনায় যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।”
তিনি জানান, বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে জোটভুক্ত হয়ে অংশ নিলেও প্রত্যেক দলের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার আগের বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা আইন উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানিয়েছি যাতে আগের আরপিওর বিধান বহাল থাকে। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করব।”
ঐকমত্য কমিশনের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য। তবে এই প্রতিবেদনে বেশ কিছু অনৈক্য তৈরি হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে বিএনপি একমত নয়। ঐকমত্যের বদলে অনেক জায়গায় অনৈক্যের ছাপ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বলেনি যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অবশ্যই হবে, সরকারের এ অবস্থান আমাদের আশ্বস্ত করেছে।”
বিএনপি-এনসিপি জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা না করেই ঐকমত্য কমিশন অনেক সুপারিশ দিয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে আমরা একমত নই। দু-এক দিনের মধ্যেই বিএনপি তাদের আনুষ্ঠানিক মতামত জানাবে।”
এর আগে দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে সুপারিশপত্র প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ।