
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো এবং মর্যাদাপূর্ণ আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৭তম সংস্করণ মাঠে গড়াচ্ছে শনিবার (২৫ অক্টোবর)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে এই আসর, যা দেশের ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওঠার অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবারের আসরে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে—ঢাকা মেট্রো দলকে বিলুপ্ত করে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট মানচিত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাওয়া ময়মনসিংহের পারফরম্যান্স নিয়েই রয়েছে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ।
উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, যেখানে নবাগত ময়মনসিংহ মুখোমুখি হবে স্বাগতিক সিলেট বিভাগের। সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ময়মনসিংহ দলের নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার শুভাগত হোম, সহঅধিনায়ক হিসেবে আছেন আবদুল মজিদ। দলে রয়েছেন তরুণ ওপেনার নাঈম শেখ, স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব এবং পেসার আবু হায়দার রনি।
জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে অনেক ক্রিকেটার এনসিএলে খেলবেন না। ফলে বেশ কয়েকটি দলই তাদের শীর্ষ তারকাদের রিজার্ভ বা স্ট্যান্ডবাই তালিকায় রেখেছে। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ ক্রিকেটারদের সামনে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগ আগের মতোই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। অধিনায়ক সাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম, সানজামুল ইসলাম এবং তরুণ ব্যাটার হাবিবুর রহমান সোহান। এই দলেই রয়েছেন রিজার্ভে থাকা জাতীয় দলের তিন তারকা—নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম এবং তাওহীদ হৃদয়।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগও এবার বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করেছে। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন জাকির হাসান, দলে আছেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। পেস বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন আবু জায়েদ রাহী ও খালেদ আহমেদ, আর স্পিন বিভাগে আছেন নাবিল সামাদ।
রংপুর বিভাগকে এবারের আসরে তরুণ ও অভিজ্ঞতার মিশেলে তৈরি একটি দল বলা যায়। অধিনায়ক আকবর আলীর নেতৃত্বে আছেন নাসির হোসেন, নাঈম ইসলাম এবং তানভির হায়দার। রিজার্ভে আছেন জাতীয় দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়—লিটন দাস, শরিফুল ইসলাম এবং রিশাদ হোসেন। তাদের অনুপস্থিতিতে দলটি তরুণদের ওপর ভরসা রেখেছে।
খুলনা বিভাগ সবসময়ই ঘরোয়া ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। এবারের আসরেও নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুন। তার সঙ্গে রয়েছেন সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেন ও এনামুল হক বিজয়। এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তাদের অলরাউন্ডার সমৃদ্ধ ব্যাটিং অর্ডার ও অভিজ্ঞ বোলিং ইউনিট।
ঢাকা বিভাগ এবারও অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার মিশ্রণে গড়া একটি দল নিয়ে মাঠে নামছে। দলের ব্যাটিং লাইনআপে রয়েছেন সাদমান ইসলাম, রনি তালুকদার, মার্শাল আয়ুব ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেবেন সুমন খান ও সালাউদ্দিন সাকিল, আর স্পিনে থাকছেন নাজমুল ইসলাম অপু।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগও নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। চট্টগ্রামের দলে রয়েছেন মুমিনুল হক, মাহমুদুল হাসান জয় ও ইয়াসির আলী, যারা লিগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত। বরিশালের নেতৃত্বে আছেন তানভীর ইসলাম, দলে অভিজ্ঞ ব্যাটার ফজলে মাহমুদ ও শামসুর রহমানও আছেন।
এবারের এনসিএলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক। নতুন দল যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ক্রিকেটবোর্ড কর্মকর্তারা। তরুণদের পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞদের ধারাবাহিকতা এবং বিভাগীয় গর্ব—সব মিলিয়ে ২৭তম এনসিএল হতে যাচ্ছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের এক প্রাণবন্ত উৎসব।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ