প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বিদেশি ব্র্যান্ডের আসল মোড়ক ব্যবহার করে গত এক বছর ধরে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর চকলেট তৈরি এবং বাজারজাতের প্রস্তুতির অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মধ্য ইলশা এলাকায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআইয়ের) তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মোড়কজাতকরণ সামগ্রী ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে অবৈধ কারখানাটিতে গত এক বছরে প্রায় কোটি টাকার নকল চকলেট তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযানে ১৩০ কার্টনে থাকা প্রায় ৭২ হাজার পিস নকল সফট ক্যান্ডি, ৫ লাখ পিস নকল ওট বার (নাটস), দুই ড্রাম কুমারিকা নারিকেল তেল, বিভিন্ন ধরনের নকল চকলেট ও ক্যান্ডি এবং ১৫০ রোল ছোট মোড়ক ও ১ লক্ষ ৪০ হাজার পিস (৩০ বস্তা বড়) মোড়কজাতকরণের সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে অভিযানে আরও অংশ নেন বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক (রসায়ন) শাহরিয়ার কবির টিপু, পরিদর্শক (মেট্রোলজি) এম এ আল নোমান, ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. হাসিবুল হাসান, সহকারী পরিচালক (সিএম) রিগ্যান বৈদ্য, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ছৈয়দ আকবর, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাছিরসহ পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ ও একটি অসাধু চক্র গত এক বছর ধরে বিদেশি ব্র্যান্ডের আসল প্যাকেট ও মোড়ক সংগ্রহ করে সেগুলোর ভেতরে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর চকলেট ভরে বাজারজাত করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন বলেন, 'ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে গত ১ বছর ধরে বিদেশি ব্র্যান্ডের আসল মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর চকলেট তৈরি এবং বাজারজাত করে আসছিলেন চক্রটি। অভিযানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের নকল পণ্য জব্দ ও প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মোড়কজাতকরণ সামগ্রীও ধ্বংস করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ ও ক্ষতিকর পণ্যের উৎপাদন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।'
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি