প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের শীর্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, ৩৬ বছর আগে জামায়াত যে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা প্রস্তাব করেছিল, সেটিই আজও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিশির মনির বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনই একমাত্র উপায়, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে সত্যিকারের সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল পূর্বপরিকল্পিতভাবে। এমনকি সংসদীয় কমিটিও তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিতে চায়নি। একজন ব্যক্তির ইচ্ছাতেই এটি বিলুপ্ত করে দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতিতে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার সবাই উপলব্ধি করছে— দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলাই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।”
শিশির মনির জানান, জুলাই সনদে সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। আদালতের যেকোনো রায় যেন এই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট এই সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়।
এরপর একই বছরের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়।
এই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন নাগরিক সংগঠন সুজন-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।