
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রায় কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—নেতানিয়াহু কানাডায় প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তিনি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গত শুক্রবার প্রচারিত ব্লুমবার্গ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী কার্নি এই মন্তব্য করেন।
প্রশ্ন করা হলে—নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না—কার্নি জবাব দেন, “হ্যাঁ।” যদিও এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি আরও জানান, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। “ইসরায়েলের পাশে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রেখে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে,” বলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
কার্নি মনে করেন, নেতানিয়াহুর সরকার জাতিসংঘের নীতিমালা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকে কানাডা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে। কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার সেই নীতির বিরোধিতা করছে। তাই এখন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া সময়ের দাবি।”
অন্যদিকে, কানাডার এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ওফির ফাল্ক বলেন, “কানাডা ইতিমধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তাই কার্নির উচিত বিশ্বের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো, গ্রেপ্তারের হুমকি নয়।”
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এর আগে ইউরোপের অন্তত দশটি দেশ—বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, স্লোভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ড—ইতিমধ্যেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো উত্তর আমেরিকার অন্যতম প্রভাবশালী দেশ কানাডা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ