প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:০০ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৫ ১২:৪৩ PM

সংগৃহীত ছবি
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বাংলাদেশে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনকে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করে। অভিযোগগুলো এসেছে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল থেকে। মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ও কয়েকজন বর্তমান সামরিক কর্মকর্তা, যার মধ্যে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের সাবেক মহাপরিচালক এবং র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা। এরপর শনিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এক ডজনের বেশি অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে।
ভলকার তুর্ক বলেন, অভিযুক্তদের স্বাধীন ও যোগ্য বেসামরিক আদালতে দ্রুত হাজির করা জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী বিচার স্বচ্ছভাবে হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সুষ্ঠু বিচার ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে এই সংবেদনশীল মামলাগুলোতে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুর্ক স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো গুমকে আইনত স্বীকৃত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের আমল থেকে ঝুলে থাকা বহু মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু নিষ্পত্তি জরুরি। অন্যায়ভাবে আটক রাখা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সাবেক সরকারের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, কোনও মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পথ বেছে নেওয়া যাবে না।
শেষে ভলকার তুর্ক বলেন, “শুধু বিচারের মাধ্যমে নয়, সত্য উদঘাটন, ক্ষতিপূরণ, নিরাময় ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি প্রক্রিয়া শুরু করাই বাংলাদেশের জন্য এগিয়ে যাওয়ার পথ। এতে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।” তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: জাতিসংঘ প্রেস বিজ্ঞপ্তি