
ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সামরিক প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আল-ঘামারি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ঘামারির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হুথি গোষ্ঠী। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হুথিদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মানজনক লড়াই চালানোর সময় শহীদ হয়েছেন আমাদের সাহসী নেতা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আল-ঘামারি।”
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ওই হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন। তখন ইসরায়েল জানায়, হুথিদের প্রধান ঘাঁটি লক্ষ্য করেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
হুথি গোষ্ঠী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সংঘাত এখানেই শেষ নয়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “ইসরায়েল তার অপরাধের উপযুক্ত প্রতিশোধ পাবে।”
গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের পর থেকেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আসছে হুথি বাহিনী। জবাবে ইসরায়েল প্রায়ই হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
গত ১৪ জুনও ইসরায়েলি সেনারা ইয়েমেনে হুথি সামরিক নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। তখন আইডিএফ জানায়, “হামলাটি সফল হয়েছে কি না তা পরে জানানো হবে।”
কে এই নিহত হুথি নেতা
মোহাম্মদ আল-ঘামারি ২০১৬ সাল থেকে হুথিদের সামরিক শাখার চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সে বছরই সংগঠনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদ তাকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়।
২০২১ সালে তিনি হুথি সেনাবাহিনীর প্রধান (কমান্ডার-ইন-চিফ) হিসেবে দায়িত্ব নেন, আবদুল খালেক আল-হুথির স্থলাভিষিক্ত হয়ে। বর্তমানে আবদুল খালেক সংগঠনের দ্বিতীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘামারি জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ছিলেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছিল, তিনি ইয়েমেনের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘামারির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে হুথিদের চিফ অব স্টাফ ঘামারি। এখন সে তার দুষ্ট সহযোগীদের সঙ্গে নরকে যোগ দিয়েছে।”
সূত্র: এএফপি, জেরুজালেম পোস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ