প্রকাশ: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৪৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
৩ দফা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ অথবা ন্যূনতম দুই হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের।
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতাংশ হারে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে
রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শেষ
হয়েছে আলোচনা। তবে প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা।
মন্ত্রণালয় বলছে, প্রাথমিকভাবে বাড়িভাড়ার অর্থ বাড়াতে ৯৫০ কোটি টাকা খরচ
হবে। পরবর্তী বছর থেকে এই হার বৃদ্ধির পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অন্যদিকে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ তিন দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন আরো বেগবান হয়েছে।
এরআগে,
বুধবার আন্দোলনরত শিক্ষকরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। স্লোগান, ব্যানারে
অনেকে প্রধান সড়কে শুয়ে পারেন। শিক্ষকদের ব্লকেডে শাহবাগ হয়ে রমনা,
এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এরপর শিক্ষকরা শাহবাড় ছেড়ে শহীদ মিনার এলাকায় ফিরে যান। তারা জানিয়েছেন
বুধবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহস্পতিবার লং মার্চ টু যমুনায় যাবেন
শিক্ষকরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব
অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হয় তাহলে
আমরা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় লং মার্চ টু যমুনা কর্মসূচি পালন করব।
প্রশাসনকে বলব, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করেছি, আপনারাও আমাদের সহযোগিতা
করুন।”
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, “যেখানে প্রতি অর্থবছরে রাষ্ট্রের বাজেট ৮ লাখ কোটি টাকা। সেখানে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া দিলে প্রায় চার লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য ২৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে সরকারকে দ্রুত প্রদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কোনো যৌক্তিক দাবিকে অবহেলা করা ঠিক হবে না।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় আন্তরিক। কিন্তু তাদের বাড়িভাড়া কী হারে বাড়ানো হবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত শিক্ষক
সমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত
শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের উৎসবভাতা উন্নীত
করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। গত ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া
বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষোভ
আরও বাড়িয়ে তোলে।