
ঢাকার গুলশানে শাহাজাদপুর লেকপার্কের পাশে অবস্থিত একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা শুধু চুরি করেই ক্ষান্ত হয়নি, পরে ‘ফোন ফেরত দেওয়ার’ কথা বলে কৌশলে দোকানকর্মচারীকে নির্জনে ডেকে নিয়ে গিয়ে হুমকি দিয়ে তাৎক্ষণিক ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে বিকাশ নাম্বার দিয়ে আরও টাকা দাবি করা হয় ওই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি দোকানের সামনে আসে এবং সন্দেহ জনকভাবে আশেপাশে ঘোরা-ফেরা করে। পরে সুযোগ বুঝে দোকানের সাটার উঠিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের দুটি মোবাইল ফোন, একটি চার্জার ও একটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
কিছুক্ষণ পরে দোকানের কর্মচারীরা এসে জিনিসপত্র খুঁজে না পেয়ে চারদিকে খোঁজ শুরু করেন। এসময় কিছুক্ষণ পরে ৫ থেকে ৭ জন যুবক তাদের কাছে এসে বলেন, ‘আপনার দোকান থেকে কি কিছু হারিয়েছে?’ কর্মচারী বিষয়টি জানালে তারা জানায়, ‘চোরকে আমাদের বড় ভাইয়েরা ধরে রেখেছে, আপনি আসুন, ফোন নিয়ে যেতে পারবেন।’
এরপর তারা ওই কর্মচারীকে বিভিন্ন দোকান ও গলির ভেতর ঘুরিয়ে নিজেদের আওতাধীন এলাকায় নিয়ে যায় এবং জানায়, ফোন ফেরত পেতে হলে টাকা দিতে হবে। তারা ৩ হাজার টাকা দাবি করে। কর্মচারী টাকা দেওয়ার পরও শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ফোন, চার্জার ও ব্যাগ ফেরত দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী জানায়, পরবর্তীতে ওই চক্রের অনিক নামে এক যুবক ফোনে আরও দুটি নম্বর দেয় এবং বলে, বিকাশে টাকা পাঠালেই বাকি জিনিসপত্র ফেরত দেওয়া হবে। এই সময় ভুক্তভোগীকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, টাকা পাঠানো না হলে কিছুই ফেরত পাওয়া দেওয়া হবে না। তবে বিষয়টি পুলিশকে জানালেও তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন,‘ পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে আমাকে হতাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় নেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বলে, ‘কাজ তো যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন আর কী করবেন?’
ঘটনার কিছুক্ষণ পর, চোরচক্রের আরও ৫ থেকে ৭ জন সদস্য লাঠিসোটা নিয়ে দোকানের সামনে এসে হাজির হয় এবং পাশের দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে। এসময়ও পুলিশকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তবে সিসি ফুটেজ থেকে এখন তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে থানা পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম