
ভিসতার এমডি মো. লোকমান হোসেন আকাশ
ভিসতার চেয়ারম্যান-এমডিসহ শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করার অভিযোগে ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মোহাম্মদ নূরুল হক মামলাটি করেন। নূরুল হক ভিসতা মালিকাধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা বিজনেসের বার্তা সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার আসামিরা হলেন ভিসতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও ঢাকা বিজনেসের প্রকাশক মো. লোকমান হোসেন আকাশ, ভিসতার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিজনেসের উপদেষ্টা সম্পাদক সামছুল আলম এবং ভিসতার পরিচালক ও ঢাকা বিজনেসের সম্পাদক উদয় হাকিম।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নূরুল হক ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিজনেসে যোগ দেন। বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাপ্তাহিক ছুটি, ঈদ, পহেলা বৈশাখসহ অন্যান্য উৎসব এবং জাতীয় দিবসেও কাজ করেছেন। তবে শ্রম আইন অনুযায়ী তার কোনো ওভারটাইম, ঈদ বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়নি।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত সাত মাসের মধ্যে তাকে মাত্র দুই মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়নি। ৩০ মার্চ তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। বকেয়া বেতনের জন্য ২ জুলাই নূরুল হক ভিসতাকে আইনি নোটিশ পাঠান, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি এবং কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের উদ্যোগও নেয়নি।
মামলার বাদী নূরুল হক বলেন, ঢাকা বিজনেসে আমার পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন রয়েছে। এছাড়া গত কয়েক বছরের ওভারটাইম, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও পাইনি। মোট ৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসতার এমডি ও ঢাকা বিজনেসের প্রকাশক লোকমান হোসেন আকাশ বলেন, আমরা নূরুল হককে অফিসে ডেকেছি তার পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি আসছেন না। তার চেক প্রস্তুত আছে। যদি তিনি না আসেন, আমরা কীভাবে বেতন বুঝে দেব?
এই বিষয়ে ভিসতার পরিচালক ও ঢাকা বিজনেসের সম্পাদক উদয় হাকিমের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিসতার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (অ্যাডমিন) আশরাফুল হোসাইন বলেন, আমরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। নূরুল হককে বেতন পরিশোধের জন্য ডাকা হয়েছে, কিন্তু তিনি আসছেন না। কর্তৃপক্ষ তাকে পাঁচ মাসের পরিবর্তে তিন মাসের বেতন দিতে চেয়েছে।
মামলার বাদী নূরুল হক বলেন, বেতন চেয়ে বারবার তাগাদা দিয়েছি, কোনো সাড়া পাইনি। বেতন পরিশোধ না করে আমাকে টালবাহানা করা হয়েছে। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও এমডি সাক্ষাৎ করেননি।
ভিসতার চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিজনেসের উপদেষ্টা সম্পাদক সামছুল আলম বলেন, যতদূর জানি, ঢাকা বিজনেস ভিসতার কোনো কনসার্ন প্রতিষ্ঠান নয়। এটি লোকমান হোসেন আকাশ ও উদয় হাকিম দেখবেন এবং সমাধান করবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএএম/ওএফ