অবরুদ্ধ গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা হল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। এই বহরে রয়েছে প্রায় ৪৪টি দেশের ৫০০ মানুষ। সে যাত্রায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছেন আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
গতকাল বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে এই নৌবহরে হানা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এরই মধ্যে ১৩টি জাহাজ থেকে গ্রেটা থানবার্গসহ দুই শতাধিক কর্মী-সমাজসেবীকে বন্দি করেছে ইসরায়েল।
এদিকে সারাদেশের মানুষের মনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাঁক খাচ্ছে- কেমন আছেন স্বদেশী শহিদুল আলম?
জানা গেছে, শহিদুল আলম কনসায়েন্স নামে একটি বড় জাহাজে রয়েছেন। তবে, এখন পর্যন্ত সেটি আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকে শহিদুল আলমের সর্বশেষ পোস্টে তিনি ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে ইংরেজিতে লেখেন, আমরা বারবার যাত্রা করবো। কারণ এই জলসীমা তোমাদের নয়, ওই ভূখণ্ডও তোমাদের নয়; যতক্ষণ না ফিলিস্তিন স্বাধীন হচ্ছে।
এর আগে, একাধিক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন শহিদুল আলম। এর একটিতে বুধবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, “আমার ‘ড্রোন ওয়াচ’ দেখাচ্ছে- আরও এক ঘণ্টা যেতে হবে, যেখানে আমরা সাধারণত সম্ভাব্য আক্রমণের প্রতি নজর রাখি। আমার ওয়াচে এর আগে একটি তুর্কি জাহাজ দেখা গেছে, তবে এখন পর্যন্ত বিপজ্জনক কিছু ঘটেনি।”
আরেক ভিডিওতে তিনি বলেন, “আজ সন্ধ্যায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে, বজ্রপাত হয়, বিপদ আসে। আমরা দ্রুত ঝড়ের আগে যেতে চেষ্টা করি। তখন আরেকটা ব্যাপারও ছিল। আমরা জানতে পারি, আমাদের সবচেয়ে সামনের যে ফ্লোটিলা আলমা, তাতে ইসরায়েলি জলদস্যুরা হামলা শুরু করে। আমরা এই উত্তাল ঝড়ের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সবার পেছনে সবচেয়ে বড় জাহাজে রয়েছি আমরা। কাজেই আমাদের ওপর কী আসবে তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। ইসরায়েল যেটা করছে, অন্যদের ওপর আক্রমণ করে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।”
এদিকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে নেটিজেন এবং সচেতন সমাজের মাঝে। মানবাধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণে বেশ প্রসংশা কুড়াচ্ছে এই সাগর যাত্রা। সারা পৃথিবীর মানুষ তাদের শুভ কামনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা পোস্ট এবং মন্তব্য করে যাচ্ছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস