প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বর্তমানে হামাস পর্যালোচনা করছে। বিবিসি সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষ যদি এই প্রস্তাবে সম্মত হয়, তবে তা অনুযায়ী অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা ‘সমঝোতাকৃত সীমারেখা’ পর্যন্ত প্রত্যাহার করবে। এছাড়াও পরিকল্পনায় সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে, ধাপে ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি এবং গাজায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করানো হবে।
পরিকল্পনায় গাজা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এর তদারকিতে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হবে, যার প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতারা, যেমন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাব সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনারা এখনও গাজায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং শেষ ২৪ ঘন্টায় অন্তত ১৬০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাব যুদ্ধের অবসান বা পরবর্তী শাসন ব্যবস্থার পূর্ণ রূপরেখা দেয় না। এটি মূলত একটি কাঠামো বা নীতি-নির্দেশনা, যা ভবিষ্যতে মধ্যস্থতায় আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রস্তাবটি ‘অল-ইন-ওয়ান ডিল’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যেখানে জিম্মি ও বন্দিদের মুক্তি, ইসরায়েলি সেনাদের আংশিক প্রত্যাহার এবং গাজায় ভবিষ্যৎ শাসন ও নিরাপত্তা কাঠামো অন্তর্ভুক্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রস্তাবটি ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং এটি আরব ও ইউরোপীয় দেশের দাবির কাছাকাছি। তবে অনেক অংশে অস্পষ্টতা থাকায় প্রকৃত আলোচনা এখনও শুরু হয়নি। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট নয়। এ কারণে এই পরিকল্পনাকে যুদ্ধের অবসান নয়, বরং আলোচনার টেবিলে ফেরার ভিত্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ