প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:০৪ AM আপডেট: ২৮.০৯.২০২৫ ২:১৬ PM

সংগৃহীত ছবি
রিয়াল ফ্যানদের খুবই প্রচলিত একটি প্রবাদ রয়েছে, সেটি হলো-
‘নেভার স্কোর ফাস্ট এগেনস্ট রিয়াল মাদ্রিদ’। সেটির সমুচিত জবাব পেয়েছে তারা গতকালের মাদ্রিদ ডার্বিতে। টানা ৬ জয় নিয়ে মৌসুম শুরু করা স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ বেশ ফর্মেই ছিলো মাদ্রিদ ডার্বির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত। বিপরীতে থাকা অ্যাতলেটিকো আগের ৬ ম্যাচে মাত্র দুটি জয় পেলেও, রিয়ালকে পেয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করলো তারা। ডার্বি ম্যাচে ৭৫ বছরে রিয়াল প্রথম এত গোল হজম করল।
মাদ্রিদ ডার্বি মানেই উত্তেজনা, গ্যালারিভর্তি আবেগ আর মাঠে দমবন্ধ করা লড়াই। গতকাল শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডার্বি যেন ফিরিয়ে নিয়ে গেল ৫০-এর দশকের অ্যাথলেটিকোকে- যেখানে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দেয়া হতো না। জাবি আলোনসোর দলকে তারা হারিয়েছে ৫-২ গোলে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৫০ সালের নভেম্বরে লা লিগায় রিয়ালকে ৬-৩ গোলে হারিয়েছিল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। এরপর ১৯৬৩ সালে মাদ্রিদ ডার্বিতে হয়েছিল ৭ গোল।
দুটি ঘটনাই ফের গতকালের (শনিবার) ডার্বিতে দেখা গেল। ১৪ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার রিয়াল সমতায় ফিরে লিডও নিয়েছিল। কিন্তু বাকি সময়টা তাদের জন্য কেবলই হতাশার। অ্যাতলেটিকোর হয়ে হুলিয়ান আলভারেজ জোড়া এবং রবিন লে নরমান্দ, আলেক্সান্ডার সোরলোথ ও আঁতোয়ান গ্রিজম্যান একটি করে গোল করেন।
এদিন রিয়ালের পক্ষে ব্যবধান কমান কিলিয়ান এমবাপে ও আর্দা গুলার। অ্যাতলেটিকোর মাঠ মেট্রোপলিটনে হওয়া ম্যাচটিতে অবশ্য জাবি আলোনসোর শিষ্যরাই বল পজেশনে এগিয়ে ছিল। কিন্তু আক্রমণে অতটা সংগঠিত ছিলেন না এমবাপে-ভিনিসিয়ুসরা। ৬৩ শতাংশ পজেশন থাকলেও, ৬টি শটের মধ্যে মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে সফরকারী রিয়াল। বিপরীতে দিয়েগো সিমিওনের অ্যাতলেটিকো ১৩টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে।
১৪ মিনিটে প্রথম রিয়ালের জালে বল জড়ায় স্বাগতিক অ্যাতলেটিকো। মিনিট দশেক পরই গুলারের দারুণ এক পাস ধরে এমবাপে সমতায় ফেরান রিয়ালকে। ৩৬ মিনিটে লস ব্লাঙ্কোসরা লিডও নেয় গুলারের গোলে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বাড়ানো বল থেকে অ্যাতলেটিকোর জাল কাঁপান এই তুর্কি মিডফিল্ডার। তবে লিড ধরে রাখা যায়নি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ক্রসে পাওয়া বলে হেড দিয়ে সফল সোরলথ।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল আর কোনো শক্ত আক্রমণ তো করতেই পারেনি, উল্টো তিন গোল হজম করেছে। অ্যাতলেটিকোর আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ এদিন শুরুটা করেন পেনাল্টি দিয়ে। ৪৯ মিনিটে তার স্পটকিকে ব্যবধান ৩-২ এ পরিণত হয়। আলভারেজ নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন ৬৩ মিনিটে। ফ্রি-কিক থেকে তিনি সরাসরি বল জালে জড়ালেন এবার। জয় প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়েই আগাচ্ছিল অ্যাতলেটিকো। তবে সর্বশেষ মাদ্রিদ শিবিরে আবারো আঘাত হানেন ২২ ম্যাচ গোলখরায় থাকা গ্রিজম্যান, ৯০ মিনিট পর যোগ করা সময়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন।
আর এরই মধ্যদিয়ে শেষ হলো মাদ্রিদ ডার্বি। এই রাত এমন এক রাত যা লাল-সাদা সমর্থকরা বহু বছর মনে রাখবে।