
১. শহীদুল আলম ২. মির্জা ইয়াছিন আলী ৩. কাজী আলাউদ্দিন ৪. আইয়ুব হোসেন মুকুল ৫. মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ৬. আজিজুর রহমান
সাতক্ষীরা-৩ (কালিগঞ্জ-আশাশুনি) আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসে বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলো নতুন সমীকরণে পড়লেও জামায়াত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ আসনে দলটির ঘোষিত প্রার্থী সাবেক জেলা আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশারকে ঘিরে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানের নামও আলোচনায় এসেছে।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “আমাদের যাবতীয় নির্বাচনী প্রস্তুতি আছে। আমরা জনগণের সাথেই আছি। এ আসনে আমাদের ঘোষিত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সীমানা পরিবর্তন হওয়ার পর প্রার্থিতা নিয়ে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
অন্যদিকে বিএনপি অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে দ্বিধায় আছে। একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়নের দৌড়ে থাকলেও সীমানা পুনর্বিন্যাসে তাদের দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ভেস্তে গেছে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ড্যাবের সাবেক সহসভাপতি ডা. শহীদুল আলম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন এলাকার মানুষের সাথেই আছি। সাতক্ষীরা-৩ আসনের সীমানায় কিছুটা পরিবর্তন এলেও সমস্যা হবে না। এ আসনে বিএনপি অত্যন্ত শক্তিশালী। আমার বিশ্বাস আমি বিজয়ী হয়ে এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারবো।”
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী আলাউদ্দিন বলেন, “আমি এক সময় কালিগঞ্জ-দেবহাটা আসনের এমপি ছিলাম। এখন নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংসদীয় আসনের চূড়ান্ত সীমানা অনুযায়ী দেবহাটা পড়েছে সাতক্ষীরা-২ আসনের মধ্যে, আর কালিগঞ্জ পড়েছে সাতক্ষীরা-৩ আসনের মধ্যে। আমি বিগত ১৫ বছর কাজ করেছি শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে। এখনো শ্যামনগর ও কালিগঞ্জেই কাজ করছি, প্রতিদিন দুই উপজেলাতেই একাধিক প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছি। দুই আসনের নেতাকর্মীরাই আমাকে চাচ্ছে, তারা বলছে, ‘আমাদের ছেড়ে যেয়েন না।’ এমন পরিস্থিতিতে আমিচূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য দলীয় হাই কমান্ডের সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি।”
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মির্জা ইয়াছিন আলী বলেন, “এখন পৃথিবীব্যাপী তরুণদের জয়জয়কার চলছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের দলও তরুণদের গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। সেক্ষেত্রে আমি অবশ্যই আশাবাদী।”
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আইয়ুব হোসেন মুকুল বলেন, “দলের খারাপ সময়ে আমরা কাজ করেছি। দীর্ঘদিন ধরে সাপোর্ট দিয়েছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাণী তৃণমূলে পৌঁছে দিতে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনে দল যারা দুর্দিনের কর্মী, যারা সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করেছে এবং করে তাদের গুরুত্ব দেবে।”
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমানা পরিবর্তনের কারণে বিএনপি ও জামায়াত দু’দলকেই নতুন করে কৌশল সাজাতে হবে। তবে বিএনপি যেখানে একাধিক প্রার্থী ও অভ্যন্তরীণ সংকটে বিভ্রান্ত, সেখানে জামায়াত সংগঠিত ও একক প্রার্থী নিয়ে অপেক্ষায় আছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের জন্য।