প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:২৬ পিএম

বিশ্বের ‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ টাইফুন হিসেবে চিহ্নিত ঘূর্ণিঝড় রাগাসা তাণ্ডব চালিয়ে গেছে তাইওয়ান, হংকং ও চীনে। প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পর চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে- মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে, নিখোঁজ রয়েছেন শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের ভেতর চলছে উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম।
তাইওয়ানের হুয়ালিয়েন কাউন্টি, বিশেষ করে গুয়াংফু শহর, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি লেকে পানি জমে বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই প্লাবিত হয় পুরো শহর। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় বাড়িঘর ও যানবাহন। শহরের রাস্তায় এখন শুধু কাদা, ধ্বংসস্তূপ আর অসহায় মানুষের আর্তনাদ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। নামানো হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি ও এক্সকাভেটর। স্থানীয়রাও হাতে শাবল ও ঠেলাগাড়ি নিয়ে নিজেদের ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছেন।
এখনো বন্ধ রয়েছে শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। কেউ সংগ্রহ করছেন পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি, কেউ কিনছেন বোতলজাত পানি। পাহাড়ি ঝরনার পানি দূষিত হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমে আসায় ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে পুনরায় চালু হয়েছে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দুই দিন আটকে থাকা যাত্রীরা ভিড় করেছেন টার্মিনালে। ফের ফ্লাইট চালু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে ‘রাগাসা’-কে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর উৎপত্তির পর ২১ সেপ্টেম্বর সুপার টাইফুনে পরিণত হয়ে প্রথম ফিলিপিন্সে আঘাত হানে এটি। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ আঘাত হানে চীনের দক্ষিণাঞ্চলে।
চলমান উদ্ধার কাজের পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হলেও অনেক এলাকাই এখনো বিচ্ছিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম