
সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে দেড় মাসের ব্যবধানে আবারও সীমান্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এতে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে উভয় পক্ষ।
গতকাল বুধবারের (১৮ সেপ্টেম্বর) এই সংঘাতে আহতরা বেশিরভাগই কম্বোডিয়ার নাগরিক। তবে থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন নাগরিকও আহত হয়েছেন, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায়। ব্যাংকক দাবি করছে, অঞ্চলটি থাইল্যান্ডের সা কায়েও প্রদেশের বান নং ইয়া কায়েও গ্রামের অংশ। অন্যদিকে নমপেন বলছে, এটি কম্বোডিয়ার বানথায়ে মিনচে প্রদেশের প্রিয়ে চ্যান গ্রামের অন্তর্ভুক্ত।
থাই সেনাবাহিনীর অভিযোগ, বুধবার সকালে প্রায় ২০০ কম্বোডিয়ান লাঠি ও পাথর নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে থাই এলাকায় প্রবেশ করে এবং সীমান্তরক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থাই বাহিনী টিয়ারগ্যাস, রবার বুলেট, লাঠি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে কয়েকজন সীমান্তরক্ষীও আহত হন বলে দাবি তাদের।
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা অভিযোগ করেছেন, থাইল্যান্ডের পুলিশ ও সীমান্তরক্ষীরা সীমানা লঙ্ঘন করে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে এবং বেসামরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত এ ঘটনায় বৈশ্বিক নেতাদের কাছে সমর্থন চেয়ে চিঠি দিয়েছেন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল বা পান্না ত্রিভুজ নামের বিতর্কিত এই ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা মিলিত এই এলাকায় প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনা থাকায় উভয় দেশই একে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে।
বিরোধের সূত্রপাত ঔপনিবেশিক আমলে। ১৯০৭ সালে ফরাসি শাসনাধীন কম্বোডিয়ার মানচিত্রে পান্না ত্রিভুজকে কম্বোডিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়, যার বিরোধিতা করে থাইল্যান্ড। পরবর্তীতে ১৯৫৩ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পরও কম্বোডিয়া ওই এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে, আর সেখান থেকেই দুই দেশের দ্বন্দ্ব চলতে থাকে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর প্রায় ১৫ বছর আগে যুদ্ধবিরতিতে গিয়েছিল দুই দেশ। তবে চলতি বছরের মে মাসে থাই সীমান্তের কাছে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর আবারও উত্তেজনা বাড়ে। এর জের ধরে গত মে মাসের সংঘাতে অন্তত ১৫ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছিলেন। এবার দেড় মাসের মাথায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ল সীমান্তে।
সূত্র: রয়টার্স