প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:১৯ পিএম

সাজিদ রাজু
২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এরপর গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা নানা আলোচনা পর্যালোচনা করছেন। কিছু ভালো পদক্ষেপ হয়তো গ্রহণ করা হবে। আমি আশাবাদী ।
আশাবাদী মানুষ হিসেবে আমি চাই দেশের গণমাধ্যম সত্যিকারের 'গণমাধ্যম' হয়ে উঠুক। সেখানে গণের কথা প্রাধান্য পাক। গণমাধ্যমে গণমানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়ুক। কিন্তু একইসঙ্গে একটা বিষয় আলোচনায় আসা উচিত। বাংলাদেশের গণমাধ্যম চলছে কীসের ভিত্তিতে? মিডিয়া হাউজগুলোর কি কোন লিখিত কোড অফ কন্ডাক্ট, সাংগঠনিক স্ট্রাকচার, নৈতিক নির্দেশনা বা ইথিক্যাল গাইডলাইন্স আছে? সংগঠন হিসেবে সত্যিকারের সাজানো একটা সমন্বিত অপারেশনাল ফ্রেমওয়ার্ক আছে যার ভিত্তিতে মিডিয়া হাউজ কোন প্রকার পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে বেঁচে থাকতে পারে?
মিডিয়ায় আমার সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা ১৩ বছরের। এখনও কোন কোন গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে, তবে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে। আর এখন গণমাধ্যমের কার্যক্রম আরও গভীরে গিয়ে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে একাডেমিক সংশ্লিষ্টতার কারণে। আমার কাছে মনে হয়েছে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যমের (প্রথমসারির টেলিভিশন ও পত্রিকাসহ) লিখিত কোন কোড অফ কন্ডাক্ট ও ইথিকক্স নাই, যার ভিত্তিতে গণমাধ্যমগুলো তার নৈতিক দায়িত্ব বা নরমেটিভ রোল প্লে করতে পারে। এখানে কাজ হয় উপরের সারির বসের সরাসরি আদেশ বা নির্দেশনায়, এবং সেটা মৌখিক। যিনি বা যারা এই নির্দেশনা দেন তারাও তাদের উপরের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। ফলে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, বিশ্বাস, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা সুনির্দিষ্ট আদর্শের বাস্তবায়ন হয়। এবং প্রকাশিত সংবাদ ছাড়া এসব নির্দেশনা কী রকম পর্যায়ে হয় তা জানার ভাল কোন উপায় নাই। ফলে আপাতত ধরে নেওয়া যায় সংবাদমাধ্যমগুলো কখনো কখনো গণবিরোধী অবস্থানে চলে যাওয়ার পেছনে এসব প্রফেশনাল মিসকন্ডাক্ট বড় ভূমিকা পালন করে।
মোটাদাগে কোথাও যদিও কিছু লিখিত নিয়মকানুন থাকেও, সেসব কোন প্রফেশনাল বডি দিয়ে করা হয়নি। বরং সংবাদ মাধ্যমের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেগুলো করা হয়েছে। তারমধ্যে আবার বেশিরভাগ নিয়মকানুন তৈরিই করা হয় কিভাবে কর্মীদের সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা মাথায় রেখে। আমি নিজেও কিছুদিন একটা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিষ্ঠাকালীন নানা নিয়ম-কানুন তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করেছি। সেখানেও একইরকম চিত্র দেখেছি।
সংস্কার কমিশন কি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দেখছেন?
লেখক: গণমাধ্যম কর্মী।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর