প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:২৪ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মঙ্গলখালী এলাকায় অবস্থিত এসিআই লবণ কারখানা দীর্ঘ ২২ বছর ধরে স্থানীয়দের জন্য এক ভয়াবহ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ধোঁয়া ও গ্যাসের প্রভাবে এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফসলি জমি, গাছপালা, মিঠা পানির উৎস, এমনকি স্থানীয়দের ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
কারখানার দূষিত ধোঁয়া ও গ্যাসে থাকা রাসায়নিক পদার্থ টিনের চাল দ্রুত মরিচা ধরিয়ে ফেলছে। অনেকের ঘরের চাল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শীতলক্ষ্যা নদীতে সরাসরি বর্জ্য ফেলার কারণে পানি লবণাক্ত হয়ে পড়ছে, মাছ কমে যাচ্ছে, কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বাতাসে সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও চোখের সমস্যা তৈরি করছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মাঝে জরিমানা করলেও তা কার্যকর হয়নি। দিল মোহাম্মদ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “কারখানার ধোঁয়া এত ঝাঁঝালো যে ছোট ছেলেমেয়েরা শ্বাস নিতে পারে না। সাবমারসিবলের পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে।” অপরদিকে জান্নাতি আক্তার জিম বলেন, “কাপড় শুকাতে দিলে কালো হয়ে যায়, রান্নার সময়ও বাজে গন্ধ আসে।”
মঙ্গলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হুমায়রা জানান, স্কুলের সাবমারসিবলের পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়েছে, ফলে ৪০০–৫০০ শিক্ষার্থী পানি সংকটে ভুগছে। উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো সমাধান মেলেনি। এলাকাবাসী কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।
এসিআই সল্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপক নিয়ামুল বাড়ি বলেন, “সব ইন্ডাস্ট্রিতেই কিছু সমস্যা থাকে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু জরিমানা নয়—দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ