শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
‘তোমরা যারা মাদ্রাসা থেকে এসেছো, আমি তাদের নম্বর কম দেব’
জয়নাল আবেদীন
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:১৪ পিএম আপডেট: ১৩.০৯.২০২৫ ১০:২১ PM

এক বুক স্বপ্ন নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে মেধা তালিকায় শীর্ষ তিন-চারজনের মধ্যেই ছিলাম। আমাদের ব্যাচে বেশ কয়েকজন ছিল, যাদের ব্যাকগ্রাউন্ড মাদ্রাসা। ক্লাসে একদিন একজন শিক্ষক সরাসরি বললেন, "তোমরা যারা মাদ্রাসা থেকে এসেছো, আমি তাদের নম্বর কম দেব।" 

তৃতীয় বর্ষে আমার ফলাফল তুলনামূলকভাবে কিছুটা খারাপ হলো। এরপরই নেমে এলো আমার জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় সেই রাত। আমাকে নিজ কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে বারোটা থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত নির্মম নির্যাতন চালানো হলো। আর এতে অংশ নিল আমারই কিছু ব্যাচমেট—বন্ধু নামের কিছু কুলাঙ্গার। 

কোনো তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তারা আমার ওপর নির্মম নির্যাতন চালাল। নির্যাতনে আমার বাম পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেল, দুই কানে গুরুতর সমস্যা দেখা দিল। শরীরের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে আমাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। তৎকালিন বিভাগীয় প্রধান আমাকে নাকি বহিষ্কার করার কথাও চিন্তা করছিলেন যা পরবর্তীতে এক সিনিয়র সাংবাদিকের কাছ থেকে শুনেছি। 

এই ঘটনার পর চতুর্থ বর্ষের ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হলো। অনার্সে আমার চূড়ান্ত সিজিপিএ দাঁড়ালো ৩.৫৯। বিভাগ থেকে আমাকে থিসিস নিতে দেওয়া হলো না। বলা হলো, থিসিসের জন্য সিজিপিএ ৩.৬০ প্রয়োজন, অথচ আমাদের ঠিক আগের ব্যাচের সিনিয়ররা ৩.৫০ পেয়েও থিসিস নেয়। নন-থিসিস গ্রুপে আমার "সম্মানিত" শিক্ষকেরা আমাকে এত কম নম্বর দিলেন, যা আমি বিগত চার বছরে কোনো কোর্সে পাইনি। আলহামদুলিল্লাহ, আমি হাল ছাড়িনি। শতভাগ স্কলারশিপ নিয়ে তুরস্কের ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি। 

আর হ্যাঁ, এখানে আমার সিজিপিএ ছিল ৩.৮৬। এখন একই বিভাগে পিএইচডি করছি, যেখানে আমার কোর্সওয়ার্কের সিজিপিএ ৩.৯৪। আর হ্যাঁ, আমি কিন্তু মাদ্রাসা থেকেই উঠে এসেছি। বিস্তারিত হয়তো অন্য একদিন বলব। আজ এটুকুই। যারা সেদিন আমার ওপর প্রকাশ্যে নির্যাতন চালিয়েছিলে এবং যে শিক্ষকেরা নানাভাবে আমার অধিকার খর্ব করেছেন, আল্লাহ আপনাদের হেদায়েত দান করুন। প্রার্থনা করি, আপনাদের কলমের খোঁচায় যেন আর কারও স্বপ্ন এভাবে ভেঙে না যায়। পরিশেষে জাকসু নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, সবাইকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, জাবি।


আরও সংবাদ   বিষয়:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close