প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৩৭ AM

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর—একটি দিন যা ইতিহাসে চিরকাল ভয়াল স্মৃতি হয়ে থাকবে। এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, যা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে যায় ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে। চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে চালানো ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক আর মৃত্যু নেমে আসে হাজারও মানুষের জীবনে।
প্রথম দুটি বিমান আঘাত হানে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে—একটি সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নর্থ টাওয়ারে, আরেকটি সকাল ৯টা ৩ মিনিটে সাউথ টাওয়ারে। ভবন দুটিতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায়, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে যায় ভেতরে। তৃতীয় বিমান আঘাত হানে ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি ক্যাপিটল ভবনে হামলার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও যাত্রীদের প্রতিরোধে সেটি পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হয়।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন। আহত হন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭৭টি দেশের নাগরিক ছিলেন। মার্কিন গোয়েন্দারা হামলার জন্য দায়ী করে আল-কায়েদা ও এর নেতা ওসামা বিন লাদেনকে। ঘটনাটির পরপরই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ আফগানিস্তানে সন্ত্রাস দমনের যুদ্ধ ঘোষণা করেন, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে ইরাক, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে।
দীর্ঘ দুই দশক পর, ২০২১ সালে এফবিআই টুইন টাওয়ারে হামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে জানানো হয়, হামলাকারীদের বেশিরভাগ সৌদি নাগরিক হলেও সৌদি সরকার বা কোনো কর্মকর্তা সরাসরি জড়িত ছিলেন না। আল-কায়েদা সরাসরি হামলার দায় স্বীকার করেছিল। তবুও সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সন্দেহ ও বিতর্ক রয়ে গেছে।
‘নাইন-ইলেভেন’ হামলার পর থেকেই বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্রে পাস হয় ‘প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট’, যার মাধ্যমে সরকার যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে পারে। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ