প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:১৫ AM আপডেট: ১১.০৯.২০২৫ ২:৩২ এএম

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৭৭ জন প্রার্থী। ২৫টি পদের বিপরীতে গঠিত হয়েছে মোট ৮টি প্যানেল—যার মধ্যে রয়েছে বামপন্থী, ডানপন্থী, মধ্যপন্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ হলে স্থাপিত ২১টি কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এ উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা বিরাজ করছে।
এবারের নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ সবার আগে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করে। ভিপি পদে রয়েছেন আরিফুল্লাহ আদিব এবং জিএস পদে মাজহারুল ইসলাম। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ গঠিত হয়েছে আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বলের নেতৃত্বে। ছাত্রদলও একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে, যেখানে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. শেখ সাদী হাসান এবং জিএস পদে রয়েছেন এবারের নির্বাচনের একমাত্র নারী প্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী।
বামপন্থী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভাজনের কারণে গঠিত হয়েছে তিনটি আলাদা প্যানেল। ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ নামের একটি আংশিক পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে রয়েছে সর্বাধিক নারী, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বী প্রার্থী। ছাত্র ইউনিয়নের আরেক অংশ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের উদ্যোগে গঠিত হয়েছে পাঁচ সদস্যের ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, যেখানে ভিপি পদ শূন্য রাখা হয়েছে। এছাড়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আরেক অংশ মাত্র তিন সদস্যের একটি আংশিক প্যানেল দিয়েছে। এভাবে বামপন্থী সংগঠনগুলো বিভক্ত হয়ে গেলেও তারা নানা ইস্যুতে সক্রিয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে পিছিয়ে নেই। ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ভিপি পদে লড়ছেন আব্দুর রশিদ জিতু এবং জিএস পদে মো. শাকিল আলী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’। এই প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন মো. মাহফুজুল ইসলাম মেঘ। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচনী পরিবেশ আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৯৭ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫,৭২৮ জন এবং ছাত্র ৬,১১৫ জন। ভোটগ্রহণ হবে ছাত্রদের ১১টি এবং ছাত্রীদের ১০টি হলে স্থাপিত ২১ কেন্দ্রে। এসব কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে ২২৪টি বুথ। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, জাকসুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে নতুন ধারায় নিয়ে যেতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ