প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২:৪৯ AM

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নেপালের সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির। জানা গেছে, তিনি এখনো নেপালেই অবস্থান করছেন এবং সেনাবাহিনীর বিশেষ সুরক্ষায় রাজধানী কাঠমান্ডুর নিকটবর্তী শিবপুরী এলাকায় রয়েছেন। নেপালি সংবাদমাধ্যম খবরহাব বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অলি শিবপুরী থেকে তরুণ প্রজন্ম তথা জেন জি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি নিজের ব্যক্তিগত শোক, সংগ্রাম এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পুলিশের গুলিতে নিহত তরুণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অলি বলেন, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কারণে তিনি সন্তানহীন হলেও “বাবা হওয়ার ইচ্ছা” আজও তার ভেতরে জীবিত রয়েছে।
নিজের অতীতের রাজনৈতিক দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে অলি জানান, ১৯৯৪ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময় তার আমলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। তিনি শান্তির পক্ষে নিজের আজীবন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অভিযোগ করেন যে বর্তমান আন্দোলনকে তরুণদের ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা হচ্ছে। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ হঠাৎ করে ঘটেনি, বরং তরুণদের মুখ ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চলছে।
বার্তায় অলি আবারও দৃঢ়ভাবে নেপালের দাবিকৃত লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরা সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নাগরিকদের কথা বলার, চলাফেরার এবং প্রশ্ন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা তার জীবনের উদ্দেশ্য। দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বও তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
এর আগে, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ অন্তত সাতটি শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশি গুলিতে ১৯ জন নিহত এবং চার শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষমেষ মঙ্গলবার পদত্যাগে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী অলি। এরপর সেনাবাহিনী তাকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ