প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:৫৭ AM

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় যুগের পর যুগ ধরে চলমান দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কওমি ও তরিকতপন্থি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মতাদর্শীরা। তাদের মধ্যে আকিদাগত (বিশ্বাসভিত্তিক) মতপার্থক্যের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বও প্রকট হয়ে উঠেছে।
তরিকতপন্থিরা সুফি ধারার অনুসারী, যারা পীর-আউলিয়া, মাজার জিয়ারত, মিলাদ-কিয়াম ও ওরসের মতো আচার-অনুষ্ঠান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে থাকেন। অপরদিকে কওমি আলেমরা এসব প্রথাকে ইসলামবিরোধী ও ‘বেদাত’ হিসেবে আখ্যা দেন। এ মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরে ওয়াজ-মাহফিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আকার ধারণ করে, যা মাঝে মাঝে সহিংসতার জন্ম দেয়। সর্বশেষ গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব ও কওমি নেতা মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, তথাকথিত সুন্নিরা ঈদে মিলাদুন্নবীসহ কিছু বিষয় সংযোজন করে ইসলামের নামে পালন করে আসছে। যা শরিয়তের দৃষ্টিতে বেদাত। ইসলাম যা সমর্থন করে না তার বিরোধিতা করছি আমরা। আমাদের মূল দ্বন্দ্ব আকিদা নিয়ে।
অন্যদিকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা এম এ মতিন বলেন, কওমিদের সঙ্গে আমাদের দ্বন্দ্বের মূল কারণ আকিদা। তারা বেদাত বলে পীর আউলিয়াদের অস্বীকার করে। আকিদাগত এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও কওমিরা সাড়া দেয়নি।
হাটহাজারী দীর্ঘদিন ধরেই কওমি ও তরিকতপন্থিদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানে অবস্থিত দেশের বৃহৎ কওমি মাদরাসা ‘আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম’, যা কওমি আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ। অন্যদিকে এ অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য সুফি দরবার ও মাজার, যা তরিকতপন্থিদের প্রভাবশালী করে তুলেছে।
ধর্মীয় মতভেদ ছাড়াও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়েও উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব তীব্র। কওমি মাদরাসাগুলোর বিপুলসংখ্যক ছাত্র-শিক্ষক তাদের একটি রাজনৈতিক শক্তি দিয়েছে। অন্যদিকে তরিকতপন্থিদেরও বড় জনসমর্থন রয়েছে, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ দ্বন্দ্ব প্রায়ই আধিপত্য ও নেতৃত্বের লড়াইয়ে রূপ নেয়।
ওয়াজ-মাহফিলে একে অপরকে কটাক্ষ করা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের হেয় করা—এসব এখন নিয়মিত ঘটনা। এই বিরোধই হাটহাজারী অঞ্চলে উত্তেজনা ও সহিংসতার স্থায়ী কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর