প্রকাশ: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:৫৬ পিএম

আলবার্ট আইনস্টাইনকে পৃথিবীর সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একজন হিসেবে ধরা হয়। তিনি ‘রিলেটিভিটি থিওরি’ এবং ম্যাস–এনার্জি সমীকরণের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এছাড়া স্ট্যাটিস্টিক্যাল ও কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে তার কাজও প্রশংসিত। ফটোইলেকট্রিক ইফেক্টের ব্যাখ্যার জন্য ১৯২১ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। যদিও তিনি খামখেয়ালিপূর্ণ স্বভাবের ছিলেন, তার জীবনবৃত্তান্তে এমন কিছু দিক আছে যা অনেকের অজানা।
আইনস্টাইন জার্মান ও ইহুদি জাতের মানুষ ছিলেন। নাৎসি পার্টির উত্থানের সময় তিনি আমেরিকায় আশ্রয় নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট পদে প্রস্তাব পেলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই পদ গ্রহণ করলে তিনি ইহুদিদের রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিতেন, তবে তিনি শান্তিপ্রিয় ও নীরব দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এটি মেনে নেননি।
আইনস্টাইন শুধু একজন বিজ্ঞানীই নন, তিনি একজন উদ্ভাবকও ছিলেন। ১৯২০-এর দশকে লিও সিজলার্ডের সঙ্গে মিলিত হয়ে তিনি পরিবেশবান্ধব ফ্রিজের ধারণা দেন, যা ফ্রেয়ন ছাড়াই কম বিদ্যুৎ খরচ করে। এটি তখনকার সময়ে এক নতুন ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে দেখা হতো। তিনি শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নয়, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনেও মনোযোগী ছিলেন।
আইনস্টাইন সামাজিক বৈষম্য এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন। তিনি নির্দোষ কিশোরদের পক্ষে লড়েছেন এবং বিভিন্ন প্রবন্ধ ও বক্তৃতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায়ের প্রশ্ন তুলেছেন। এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তাকে কমিউনিস্ট হিসেবে সন্দেহ করত এবং নজর রাখত। এ ঘটনাটি তার রাজনৈতিক এবং সামাজিক সচেতনতার দিকটি তুলে ধরে।
আইনস্টাইনের ব্যক্তিগত জীবনেও রহস্য ও বিতর্ক আছে। তার তিন সন্তান ছিল, একজন মানসিক অসুস্থ ছিলেন। ১৯০২ সালে তার প্রথম কন্যা লেসরেয়েল জন্মগ্রহণ করেন, তবে এক বছর বয়সে স্কারলেট ফিভারে মারা যান। এছাড়া ২০১৮ সালে প্রকাশিত ভ্রমণবিষয়ক ডায়েরিতে তিনি এশিয়ার বিভিন্ন জাতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই দিকগুলো দেখায় যে, আইনস্টাইন একজন জটিল, প্রতিভাবান এবং বহুস্তরীয় চরিত্রের মানুষ ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ