স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রকৌশলী = ২৪২ পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৬৭ জন
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:০৩ AM

দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা পৌরসভা ২০১১ সালে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। সদর ও সদর দক্ষিণ পৌরসভা একীভূত হয়ে গঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির বয়স এখন ১৪ বছর। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জনবল সংকট কাটেনি; বরং সময়ের সাথে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য পড়ে থাকায় নাগরিক সেবায় ভোগান্তি বেড়েই চলছে।
সিটি কর্পোরেশনের কাঠামোতে ২৪২ জন জনবলের অনুমোদন থাকলেও শুরুতে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২২০ জন, বর্তমানে সংখ্যাটি নেমে এসেছে মাত্র ৬৭-তে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কিছু পদ মাস্টাররোলে ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সামাল দেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন কর্মকর্তাকে প্রতিদিন একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়েম ভুইয়া। গত পাঁচ বছর ধরে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে স্বাস্থ্য খাত দেখাশোনা করছেন। একই সাথে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব এবং একটি প্রকল্পেরও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকের জায়গায় প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করছে, এটি কখনোই কাম্য নয়। বারবার জনবল চেয়েছি, পাইনি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকলে সেবাকেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে তদারকি করা যেতো।
সিটি কর্পোরেশনের আরেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন চিশতী জানান, লোকবল শুধু বাড়ালেই হবে না, দক্ষ জনবল দরকার। বর্তমানে জনবল সংকটের কারণে আমাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। উচ্ছেদ বা ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালাতে গেলেও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে হয়। এতে সময় ও জনবল দুটোই নষ্ট হয়।
নগরবাসীর ক্ষোভও স্পষ্ট। ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, যানজট, জলাবদ্ধতা প্রতিদিনের সমস্যা। ১৪ বছরে জনবল কেনো নিয়োগ হলো না? আমরা কি ট্যাক্স দিইনি? ১১ নং ওয়ার্ডের তারিকুল ইসলাম বলেন, অপর্যাপ্ত জনবল অজুহাত হতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে শহর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
সনাক কুমিল্লার সাবেক সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান মন্তব্য করেন, ২৪২ পদের বিপরীতে এক-তৃতীয়াংশ জনবলও নেই। একজন কর্মকর্তার ভাগে একাধিক খাত পড়ছে, ফলে নাগরিক সেবা ভেঙে পড়ছে। অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ দিতে হবে।
এদিকে নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. শাহ আলম জানান, জনবল সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ