
সংগৃহীত ছবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আর মাত্র চার দিন পর। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রচারণার শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও শেষ সময়ে এসে এটি যেন মাত্রা ছাড়া হয়ে গেছে।
ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ধারা ৯ (গ) এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থী স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো ধরনের সেবামূলক কাজে অংশ নিতে পারবেন না। এ ছাড়া কোনো ধরনের উপঢৌকন বিলি-বণ্টন করা যাবে না। এমনকি আপ্যায়ন করানো, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা অনুরূপ কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া যাবে না। এ ধরনের কার্যক্রম সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হবে।
তবে আদতে আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না প্রার্থীরা। ডাকসুকে কেন্দ্র করে প্রতিরাতেই রমরমা খাওয়া-দাওয়া চলছে। এছাড়াও, টাকা ছড়ানোর অভিযোগ এসেছে কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসিমউদদীন হল ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক্সটেনশন, আইবিএ ক্যান্টিন, নীলক্ষেতের মামা হোটেল, পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার ও আজিমপুরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে প্রতিরাতেই ভোটারদের খাওয়াতে নিয়ে যান প্রার্থীরা। ছাত্রদল, শিবির ও বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বেশি পাওয়া গেছে।
এছাড়া, কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের এক্সটেনশনে ১৩২ জনকে আচরণবিধি ভঙ্গ করে খাওয়ানোর অভিযোগ ওঠে ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীতা করা স্বাধীন আহমেদের বিরুদ্ধে। পরে, একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় তাকে শোকজ করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে, ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরাই প্রার্থীদের প্রধান টার্গেট বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন নামে-বেনামে, অঞ্চল ও ব্যাচভিত্তিক ভোটারদের নিয়ে প্রতিরাতেই বিভিন্ন খাবারের আয়োজন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন প্রার্থীরা আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের খাওয়াতে নিয়ে যাচ্ছেন।” তাদের পরিচয় জানতে চাইলে ‘বড়ো ভাইয়েরা নিষেধ করেছেন’ বলে জানান তিনি।
খাবারের বিষয়টি ছাড়াও আচরণবিধির অন্যান্য দিকগুলোও মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে ছাত্রদলের প্রচারণায় বহিরাগতের উপস্থিতি, প্রার্থীদের পোস্টার বিকৃত করা ও নির্ধারিত সময়ের পরেই প্রচারণা চালানোর বিষয়গুলো ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, “বড় ছাত্রসংগঠনগুলোকে নির্বাচন কমিশন ছাড় দিচ্ছেন। তারা বারবার আচরণবিধি ভঙ্গ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তারা প্রতিরাতে ভোটারদের খাওয়ালেও সেটা তাদের চোখে ধরা পড়ছে না।”
তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘অথর্ব’ উল্লেখ করে বলেন, “তাদের কাছে বারবার অভিযোগ জানানোর পরেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমন চলতে থাকলে একচেটিয়া নির্বাচন হবে।”
সার্বিক বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “আমাদের কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আসলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। জিয়া হলের ঘটনায় একজনকে শোকজ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য ঘটনায়ও আমরা বিধিমালা মোতাবেক ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আচরণবিধি ভঙ্গ করে কেউ পার পেয়েছে এমন অভিযোগ সত্য নয়।”