বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
পাবনা-৩; বিএনপিতে বিভক্তি প্রকট, ঐক্যের ডাক তৃণমূলে
শিশির ইসলাম, পাবনা
প্রকাশ: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৩:৩৯ AM আপডেট: ০৩.০৯.২০২৫ ৮:৩২ এএম

সকালে চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা কাপেই যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আলোচনা সমালোচনা, কোন প্রার্থী কেমন কি পরিচয় তাঁদের অতীত বর্তমান নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আবার কেউবা পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে দিতে নানা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে। এ আলোচনা শুধু চায়ের দোকান নয় বরং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক ও সকল পর্যায়ে বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে।

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে হিসাবনিকাশ। উৎসবমুখর এখন নির্বাচনী মাঠ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে কাছে টানছেন। প্রতিদিনই চলছে শোডাউন আর গণসংযোগ ও মতবিনিময়। এক কথায় মনে হচ্ছে নির্বাচনের আমেজ শুরু হয়েছে অনেক প্রার্থীর নিত্যদিনের প্রচারণা এমন যে মনে হচ্ছে নির্বাচন অতি নিকটে।

এ আসনে বিএনপিই বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ প্রার্থীই স্থানীয়ভাবে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এ আসনে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি জোরালো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন স্থানীয় পরিচ্ছন্ন প্রার্থীর দাবিতে সোচ্চার।

পাবনা-৩ আসনে বাংলাদেশ (জামায়াতে ইসলামীর) অনেক আগেই অধ্যাপক আলী আজগরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আব্দুল খালেককে প্রার্থী ঘোষনা করেছে (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) আর মুফতি মফিজ উদ্দিন (খেলাফত মজলিসের) প্রার্থী। অন্যান্য ইসলামী দল গুলোর প্রার্থীদের তেমন প্রচারণা না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর একমাত্র প্রার্থী অধ্যাপক আলী আজগর প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছে। তিনি ও তার কর্মী সমর্থক প্রতিদিন ফজর নামাজের পর থেকে একেক দিন একেক এলাকায় নিজস্ব ধারায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ও তার কর্মী সমর্থকরা মনে করেন দেশবাসী একটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস জনগণ আর পূর্বের মত ভুল করবেন না তাদের সঠিক ভোটের রায় দিয়ে আমাদের বিজয়ী করবেন।

এদিকে জানা যায় প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়ে প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে আছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়ে মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। হাসান জাফির তুহিন স্থানীয় সাংবাদিক ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন। তিন উপজেলায় গণসংযোগ করার পাশাপাশি শত শত বিলবোর্ড টাঙিয়েছেন। তিনি চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথর গ্রামে নির্বাচনী কার্যালয় খুলেছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা তার মতবিনিময় সভাতে যোগদান করেছেন। তার দাবি দল নাকি তাকেই প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরা এই মনোনয়নের বিষয়টি মানছেন না। তাদের বক্তব্য দল এখনো কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। হাসান জফির তুহিনের বাড়ি পাবনা-৩ এলাকায় না হওয়ায় বিএনপির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও এ নেতার দাবি দল যেহেতু প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন চূড়ান্ত মনোনয়ন ও আমাকে দিবে। তাই সবার উচিত আমার পাশে থেকে কাজ করা আমাকে বিজয়ী করা মানে দলকে বিজয়ী করা। তবে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূলে নেতা-কর্মীর অধিকাংশই বহিরাগত প্রার্থী চাইছেন না। বিএনপি এখন চারভাগে বিভক্ত। তাছাড়া চাটমোহর উপজেলা বিএনপির কোন কমিটি নেই। নেতৃত্বশূন্য এই উপজেলা।

এই আসনে সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন পাবনা ৩ এর সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কেএম আনোয়ারুল ইসলামের প্রতিদিনই তিনি গণসংযোগ করার পাশাপাশি মতবিনিময় করছেন। তার সমর্থকরা মনে করেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা আনোয়ারুল ইসলামই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা তার সমর্থকরা হীরাকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তার সমর্থকদের দাবি হীরা নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হয়ে জেল খেটেছেন। দলের দুর্দিনের কান্ডারি হাসাদুল ইসলাম হীরা। প্রতিদিনই গণসংযোগ করছেন। চষে বেড়াচ্ছেন তিন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল। তিনি স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন করছেন। তার কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় প্রার্থীর দাবি জানিয়ে এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। বহিরাগত কাউকে মানা হবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন। তার কর্মী সমর্থকের দাবি প্রাথমিকভাবে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক কিন্তু চূড়ান্তভাবে হাসাদুল ইসলাম হীরাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব হাসানুল ইসলাম রাজা। শোডাউনের পাশাপাশি গণসংযোগ চালিয়ে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি করছেন। তিনি বলেন আমি দলের সবচেয়ে নির্যাতিত ও নিপীড়ন এর স্বীকার, কারণ আমি বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় সুসময়ের কোকিল ছিলাম না আমার এলাকাবাসী জানে, আমার বহু সম্পদ বিগত দখল করেছে কুচক্রী মহল এর পাশাপাশি আমাকে নানা অত্যাচার করেছেন। কিন্তু আমি দল ছেড়ে যায়নি। আমি এই আসনের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য সুপ্রসন্ন করতে কাজ করতে চাই আমার বিশ্বাস চূড়ান্তভাবে দল আমাকেই মনোনয়ন দিবে এবং আমার জয় সুনিশ্চিত। কারণ আমি কোন ক্যাডার রাজনীতি করিনা আমি জনগণের আস্থা অর্জন করতে জনগণের সেবক হয়ে কাজ করি। আমি বিশ্বাস করি এ অঞ্চলের জনগণ ভোটের মাঠে আমাকে রায় দিতে ভুল করবেন না। বিএনপির সম্ভাব্য সকল প্রার্থী দলের সাংগঠনিক অবস্থানকে নিজের অনুকূলে নিতে তিন উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন। তিন উপজেলার সাধারণ মানুষ আর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা চান স্থানীয় প্রার্থী। বহিরাগত কাউকে তারা সহজে মানছেন না। জোরালো হচ্ছে স্থানীয় প্রার্থীর দাবি।

স্থানীয়দের মতে অন্যান্য দলের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও বিএনপির একাধিক প্রার্থী রয়েছে এবং সবার জোড়ালো সক্ষমতা থাকলেও একই দলের মাঝে একাধিক প্রার্থী থাকার ফলে অন্যদলের নির্বাচনে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি আছে বলে মনে করেন। তারা মনে করেন বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিংসাত্মক তৎপরতা বিস্তৃত না করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।

তবে প্রচার প্রচারণার ও নিজেদের সেরা প্রার্থী দাবির পাশাপাশি কেউ দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে অনেকেই স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বিএনপি   জামায়াত   এনসিপি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close