
খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জোনায়েদ হাসান, আতাউল্লাহ, গাজী নিয়াজুল করিম, তৌফিকুল ইসলাম মিথিল ও আশরাফুল হাসান তপু
জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে ২৪৫-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনটি হল এ জেলার কেন্দ্র। এ আসনের প্রভাব পড়ে বাকি পাঁচটি আসনেই। তাই এ আসন কেন্দ্রিক দৃষ্টি সকলের। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) এর সাথে যুক্ত করায় এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক ভাবে এ ইউনিয়নগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নিকটবর্তী এবং রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন বলেই সকলের দাবি।
সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটি আসনই বিএনপি ও চারদলীয় জোটের দখলে থাকত। এবারের নির্বাচনে বিএনপি সব আসনই পুনরুদ্ধার করতে চায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনটি জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উর্বর আসন। এ আসন থেকে এডভোকেট হারুন আল রশীদ বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে পর পর পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালের পর এ আসনটি আওয়ামী লীগের হাতে চলে যায়। এ সময়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুর পর ঐ সালের উপনির্বাচনেও বিএনপি হেরে যায়। এরপর এ আসনটিতে বিএনপি আর বিজয়ের মুখ দেখেনি।
জানা যায়, বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল তৎকালীন সময়ের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ হাসিনার একান্ত সচিব র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চেীধুরীর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উপ-নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্ত ভোটে কারচুপির কারণে তিনি হেরে যান। পরে ২০১৮ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় তিনি আবার এ আসন থেকে র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চেীধুরীর প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু তিনি একই প্রক্রিয়ার ভোট কারচুপির কারণে নির্বাচনে আবারও হেরে যান। এবার বিএনপির চুড়ান্ত চেষ্টা হাড়ানো এ আসন পুনরুদ্ধার করার।
আগামী নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলই মনোনয়ন পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। দলের সবাই তাকে ঘিরেই ঐক্যবদ্ধ আছেন। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তিনিই হবেন ধানের শীষের কান্ডারি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের একক প্রার্থী হিসেবে তিনিই মাঠে আছেন। অন্য কারো কোন তৎপরতা এখন পর্যন্ত লক্ষ্য করা যায়নি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “ত্যাগী ও দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা নেতাকর্মীরাই এবার কেন্দ্রের মূল্যায়ন পাবেন। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।”
কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি, বুয়েট গ্র্যাজুয়েট ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকাস্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল জানান, এ আসন থেকে আমি ২০১১ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। পাশাপাশি বিগত সময়ে জেলার আন্দোলন সংগ্রামে কাজ করেছি। আমি আশাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ কেদ্রীয় কমিটি এ আসন থেকে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেবেন। আমি সর্বদা এমনকি দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলাম, মাঠ ছাড়িনি। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের আলোকেই সর্বদা মাঠে কাজ করব।
অন্যদিকে মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)-এ কোন গ্রæপিং লবিং না থাকায় ছয় জন প্রার্থীই তাদের পুর্ণ জনশক্তি নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ভোট যুদ্ধের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ছয় আসনেই একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। এ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)-এর জেলা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো. জোনায়েদ হাসানকে সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয় চুড়ান্ত ভাবে দেয়া হয়েছে।
অধ্যাপক মো. জোনায়েদ হাসান বলেন, আমি আগত সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়েই জনসভা, সমাবেশ, কর্মীসভা, গণসংযোগ করে যাচ্ছি। বিজয়ী হলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি হাসপাতাল নির্মান করব যে কোন নাগরিককে বহিঃর্বিশ্বে যেতে না হয়। এছাড়াও সমাজ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করব, যানজটমূক্ত রাস্তা-ঘাট নির্মান করব, একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করব।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সংগঠক মোঃ আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম, গণঅধিকার পরিষদের আশরাফুল হাসান তপু এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মুহসিনুল হাসান মনোনীত প্রার্থী হয়ে মাঠে কাজ করছেন।
খেলাফত মজলিসের মুফতি মুহসিনুল হাসান, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নাসিরুল হক নোয়াব প্রার্থী হতে মাঠে কাজ করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গাজী নিয়াজুল করীম বলেন এ আসন থেকে আমি ইতোপূর্বে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচন করেছি। বর্তমানে গণসংযোগ চালু আছে। ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল বলেন, ‘আমি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সামনে থেকে সরকার পতনে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে আমি এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছি। আমি নিবার্চনে অংশগ্রহন করব।'