জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে ২৪৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুর্গ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামীলীগের আমলের ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও এ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী উকিল আব্দুস সাত্তার ভুইয়া জয় লাভ করে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে তিনি জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ আসনটিতে পরে উপনির্বাচন হলে তিনি বিএনপি-এর সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহন করে বিজয়ী হন। উপ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করায় তিনি দলের কাছে বিতর্কিত হন এবং দলের রেড সিগনালে পড়েন। তার সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিএনপি-এর কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে দল থেকে বহিস্কার করেন। ২০২৩ সালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন।
আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রার্থী হতে মাঠে সভা-সমাবেশসহ ব্যাপক গণসংযোগ করছে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামিম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ফ্রন্টের মহাসচিব ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য তরুণ দে, জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা আহসান উদ্দিন খান শিপন, বিএনপি-এর সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ফরিদুল হুদার পুত্র ও জেলা বিএনপির সদস্য ডা. নাজমুল হুদা বিপ্লব, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আবু আসিফ আহমেদ, সরাইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নুরুজ্জামান লশকর তপু এবং আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ।
ইতোমধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত)-এর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোবারক হোসাইন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তৈমুর রেজা মোঃ শাহজাদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লিটন হোসেন জিহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মাইনুল ইসলাম খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে নেছার আহমেদ নাছেরী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী এবং সিপিবির উপজেলা সেক্রেটারি মোজাম্মেল পাঠান এ আসনে থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তারা মাঠে স্ব-স্ব বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি তৃনমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠির একটি বৃহৎ দল হওয়ায় এর ভিত শক্তিশালী। ফলে এদল থেকে মনোনয়ন পেতে অনেকেই আগ্রহী। আর এ আসনটি বিএনপিরই আসন। ফলে এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীও অনেক। আমি এলাকায় গ্রামে গ্রামে জনসভা, সমাবেশ, কর্মীসভা, গণসংযোগ করে যাচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এ আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হবে কি না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আসনে বিএনপি সঙ্গে থাকা জোটের প্রার্থী হবে কি না হবে তা সময় বলে দেবে।
বিএনপির নির্বাহী কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ মোহাম্মদ শামিম জানান, সরাইল ও আশুগঞ্জে প্রতিটি বিএনপি নেতাকর্মী ও জনসাধারণের দুর্দিনে পাশে ছিলাম। দলের জন্য বহুবার জেল খেটেছি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমার বিশ্বাস বিএনপি আমার ত্যাগ বিবেচনা করে আমাকেই ধানের শীষের জন্য চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে।
বিএনপি-এর সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ফরিদুল হুদার পুত্র ও জেলা বিএনপির সদস্য ডা. নাজমুল হুদা বিপ্লব বলেন, ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে আমার পিতা এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এ আসন বিএনপির জন্য উর্বর করে গিয়েছেন। গণসংযোগসহ ও সভা-সমাবেশ আমি ব্যপক সাড়া পাচ্ছি।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রিয় সহ-সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, আমি সর্বদাই মাঠে ছিলাম এখনো আছি এবং জনগনকে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচনে জনগনই আমার শক্তি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ছয়টি আসনেই আমরা জামায়াতের একক প্রার্থী নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী কাজ শুরু করে দিয়েছি। আমরা সুন্দর সমাজগঠন ও আল্লাহর দ্বীন কায়েম করতে চাই। আমার এ এলাকায় আমি প্রতিটি ঘরে ঘরে যাচ্ছি। জনগণ পরিবর্তন চায়। স্বচ্ছ নির্বাচন হলে আমি জয়ের আশাবাদী।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তৈমুর রেজা মোঃ শাহজাদ ভূঁইয়া বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনে আমি জয়ের আশাবাদী। আমি এ আসনে জনসভা, সমাবেশ, কর্মীসভা, গণসংযোগসহ অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে দলবল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লিটন হোসেন জিহাদ বলেন, মানুষ উন্নয়নের বুনিয়াদি অধিকার থেকে বঞ্চিত। এ জেলাকে শিক্ষা ছাড়াও, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মডেল জেলায় রুপান্তর করব।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী বলেন, আমরা জনগনের সমর্থন পাচ্ছি। জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।
মনোনয়ন প্রত্যাশি অন্যান্যরাও তাদের দলের ও এলাকার ভোটারের মনোযোগ আকর্ষনে জনবল নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।