প্রকাশ: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৫৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর দীর্ঘ যানজট কমাতে আজ থেকে ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে এই সিস্টেম চালু হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই অটোমেশন প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা।
২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তিনবার স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিস্টেম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সোলার প্যানেল, রিমোট কন্ট্রোল ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক সর্বাধুনিক পদ্ধতিও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ, অসম্পূর্ণ ট্রায়াল ও নানা অনিয়মের কারণে কোনো প্রকল্পই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০০১-০২ সালে ঢাকা আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পের আওতায় ৭০টি ইন্টারসেকশনে সিস্টেম বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দ্রুত বিকল হয়ে যায়। ২০১২-১৩ সালে ক্লিন এয়ার অ্যান্ড সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ২৯টি ইন্টারসেকশনে নতুন সিগন্যাল বসানো হয়, যার জন্য ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। ২০১৬ সালে ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে ডিটিসিএর উদ্যোগেও সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
এবার অন্তর্বর্তী সরকার নগরবাসীকে যানজট ও কর্মঘণ্টা বাঁচাতে অটোমেটিক ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে হাইকোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাতটি ইন্টারসেকশনে সিস্টেম কার্যকর হবে এবং পরবর্তী পর্যায়ে ২২টি ইন্টারসেকশনে সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অংশ নিচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ডিটিসিএ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক পাইলটিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি, সক্ষমতা যাচাই ও ত্রুটি শনাক্ত করা হবে। এটি আনুষ্ঠানিক চালুর আগে দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে চলবে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন জানান, শহরজুড়ে সিস্টেম সম্প্রসারণের জন্য দুই সিটি করপোরেশন ইতিমধ্যেই দরপত্র আহ্বান করেছে।
ডিএমপি ট্রাফিকের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থায় সিগন্যাল অমান্য করলে জরিমানা করা হবে।