প্রকাশ: শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫, ৯:২৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে ফাঁস হওয়া একটি ফোনকলকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের পর শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পুরোপুরি অপসারণের রায় দেন। এর আগে আদালত সাময়িকভাবে তার দায়িত্ব স্থগিত করেছিল।
এখন দেশটির আইনপ্রণেতারা যদি ঐকমত্যে পৌঁছান তবে নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হবে। নতুবা নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।
২০২৪ সালের আগস্টে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন পেতংতার্ন। মাত্র এক বছর ক্ষমতায় থাকার পরই তাকে বিদায় নিতে হলো। তিনি থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।
ফাঁস হওয়া ফোনকলে পেতংতার্নকে হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। ওই সময় তিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমালোচনা করে বলেন, তাদের কারণে কম্বোডিয়ার এক সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, “কোনো কিছু চাইলে আমাকে জানাবেন, আমি বিষয়টি দেখব।”
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে—তিনি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছেন। ফোনকলটি ফাঁস হওয়ার সময় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। কয়েক সপ্তাহ পরই দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৩৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষ থেমে যায়।
বিতর্কের জেরে ব্যাপক জনঅসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে পেতংতার্ন জনগণের কাছে ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল হিসেবেই হুন সেনের সঙ্গে এমনভাবে কথা বলেছেন।
সূত্র: সিএনএন
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর