বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
বেরোবিতে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ২:৫৩ পিএম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

দেশের অন্যান্য সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেরোবির শিক্ষার্থীরা সফলভাবে নিয়োগ পাচ্ছেন। কিন্তু নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নিয়োগে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২২টি বিভাগে ২০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। বেশির ভাগই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১২টি ব্যাচ মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। তারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তবু বেরোবিতে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়োগের সংখ্যা খুব কম—প্রতিষ্ঠার ১৭ বছরে মাত্র ৮ জন।

নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, ভাল ফলাফল থাকা সত্ত্বেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে কৌশলে বাদ পড়েছেন।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে এই উপাচার্যের সময়ের ১১ টি বিভাগের মধ্যে গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণিত বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৯ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে লেলিন চৌধুরি ও সুমাইয়া খাতুন স্নাতকোত্তরের সিজিপিএ ৪, খালিদা আক্তার ৩.৯৮, রায়হানুল ইসলাম ৩.৯৭  এবং  খোরশেদা আক্তার ৩.৯৫ পেয়েছেন।  তবে এ বিভাগে চূড়ান্তভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী নিয়োগ পেয়েছেন, যার সিজিপি এসকল শিক্ষার্থীদের চাইতেও কম।

এছাড়াও, আবেদনকারী ৯ জনের মধ্যে ২ জনের পূর্বে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। 

অন্যদিকে, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এদের কেউই চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি। এ বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পান, যার অনার্স ও মাস্টার্সের ফলাফল যথাক্রমে ৩.৭০ ও ৩.৭২।  তার কোন গবেষণা বা শিক্ষকতার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতাও ছিল না । 

আবেদনপত্র বিশ্লেষণ করে আরো দেখা যায়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী নিয়োগ পাওয়া শিক্ষার্থীর চাইতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলে এগিয়ে ছিলেন। এছাড়া অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী মাস্টার্সের রেজাল্টেও এগিয়ে আছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মোছাদ্দেকাতুন জান্নাত স্নাতকএ ৩.৮০ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৪ পেয়ে ও নিয়োগ পাননি। আরেক শিক্ষার্থী হাসনাহেনা অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম এবং দুইটি গবেষণা থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়েন। 

বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামও তার ব্যাচে অনার্সে ৩.৬৯ এবং মাস্টার্সে ৩.৮৭ পেয়ে প্রথম হন এছাড়া এ প্রার্থীর ৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা  ও তিনটি গবেষণা রয়েছে, তিনি ও বাদ পড়েন।
আরেক প্রার্থী মোছা. খুরশিদা ইয়াছমিন তার ব্যাচে অনার্সে ৩.৭৪ এবং মাস্টার্সে ৩.৭৬ পেয়ে প্রথম হন এবং শিক্ষকতার ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবুও তিনি বাদ পড়েছেন।

ইংরেজি বিভাগের আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একটি পদের বিপরীতে মোট ৩৩ জন প্রার্থীকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এই বিভাগেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী আবেদন করেন, যার মধ্যে মিশকাতুল জান্নাত নামের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফল, নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীর চেয়ে ও এগিয়ে ছিলেন। এ বিভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নিয়োগ পান।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল মুমিন বলেন, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দিলে শিক্ষার মান ও গবেষণা উন্নত হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এখানে তা কার্যকর হয়নি।

ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমানও বলেন, দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এটা বেরোবিতেও হওয়া উচিত।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএএম 


আরও সংবাদ   বিষয়:  বেরোবি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close