
সংগৃহীত ছবি
গাজার চলমান নৃশংসতায় যখন বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে চলছে, দখলদারদের উপর! ঠিক তখনি দেশে ও বিদেশে তীব্র সমালোচনা সত্ত্বেও সামরিকভাবে গাজার দখল নিতে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ফক্স নিউজে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘমেয়াদে নয়, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শেষে অঞ্চলটি একটি বেসামরিক প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়া হবে। যারা ‘ইসরাইল ধ্বংসে’ উৎসাহী নয়।” যদিও কার হাতে শাসন তুলে দেয়া হবে, সে-বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি নেতানিয়াহু।
তিনি আরো বলেন, “আমরা গাজা থেকে হামাসকে উৎখাত করতে চাই। তবে আমরা গাজা নিজেদের কাছে রাখতে চাই না। আমরা সেখানে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী চাই, কিন্তু শাসন করতে চাই না। আমরা এমন আরব শক্তির হাতে গাজাকে তুলে দিতে চাই, যারা সঠিকভাবে শাসন করতে পারবে, আমাদের জন্যও হুমকি হবে না।”
নেতানিয়াহুর এ ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসরাইলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। বলেন, “নেতানিয়াহুর এ প্রস্তাব মানে আরো যুদ্ধ, আরো জিম্মির মৃত্যু, সেই সঙ্গে অঢেল অর্থের অপচয়।”
নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইসরাইলি সেনাপ্রধান সতর্ক করে ইয়াল জামির বলেছেন, “গাজা পুরোপুরি দখল করতে গেলে ইসরাইলি সেনারা সেখানে আটকে পড়বে, সেইসঙ্গে অবশিষ্ট জিম্মিদের জীবন হুমকিতে পড়বে।”
এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হামাস। নিজ স্বার্থে নেতানিয়াহু জিম্মিদের জীবন বিপন্ন করছেন বলেও অভিযোগ করে হামাস।
হামাস বলছে, “ইসরাইলি নেতার আসল উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির চূড়ান্ত চুক্তির একদম কাছাকাছি পৌঁছেও নেতানিয়াহুর পিছু হটা আর এমন ঘোষণা প্রমাণ করে গণহত্যাই তার মুখ্য উদ্দেশ্য।”
এদিকে গাজায় শিশু অপুষ্টির নতুন রেকর্ডের কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার প্রধান তেদরোস গেব্রেয়াসুস জানান, জুলাই মাসে গাজায় ১২ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগেছে, যার মধ্যে আড়াই হাজার শিশু গুরুতর অবস্থায় রয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, এক মাসেই অনাহারে মারা গেছে ৫ বছরের নিচে ২৯ শিশু। ইসরাইলি বাধায় খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট চরমে পৌঁছেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস