
সংগৃহীত ছবি
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ বিচারালয় ‘কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (CJEU)’ এক ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করেছে, ইতালির তৈরি করা ‘নিরাপদ দেশের তালিকা’ এবং সেই তালিকার ভিত্তিতে আলবেনিয়ায় অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ আইনসঙ্গত নয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত যথাযথ নয় বলে রায়ে জানিয়েছেন আদালত।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনির সরকারের অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান কৌশল ছিল এই ‘নিরাপদ দেশের তালিকা’। তবে আদালতের রায়ে ওই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
ইতালিতে আশ্রয়ের আবেদনকারী দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়া আইনজীবী দারিও বেলুচ্চি বলেছেন, “এই রায়ের পর ইতালি সরকারের পরিকল্পনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আদালত তাদের যুক্তিকে পুরোপুরি নাকচ করেছেন।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ভূমধ্যসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইতালির নৌবাহিনী ১০ জন বাংলাদেশি ও ৬ জন মিসরীয় অভিবাসীকে উদ্ধার করে আলবেনিয়ার শেনজিন বন্দরে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আশ্রয় আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়ায় খারিজ করে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
লুক্সেমবার্গে অবস্থিত সিজেইইউ-এর রায়ে বলা হয়, কোনো দেশকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণার জন্য সেখানে সকল ধর্ম, জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকতে হবে। তাছাড়া, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকতে হবে এবং সেসব তথ্য আবেদনকারী ও আদালতের জন্য সহজলভ্য হতে হবে।
ইতালির একটি আদালত জানিয়েছিল, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য তাদের কাছে ছিল না, যা দেশটিকে ‘নিরাপদ’ হিসেবে প্রমাণ করে। সেই ভিত্তিতেই তারা ইউরোপীয় আদালতে এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিল।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনির দপ্তর আদালতের রায়কে ‘চমকপ্রদ’ বলে আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “এই রায় আমাদের সীমান্ত রক্ষা এবং অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানোর উদ্যোগকে দুর্বল করে দিচ্ছে।” একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, এই রায় অভিবাসন ইস্যুতে সংসদ ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে খর্ব করছে।
আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, আলবেনিয়ায় ইতালির গড়ে তোলা আটককেন্দ্রগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এসব ক্যাম্প নির্মাণে যে বিপুল ব্যয় হয়েছে, তা ইতালির অভ্যন্তরে একই ধরনের একটি কেন্দ্র নির্মাণের তুলনায় সাত গুণ বেশি।
বর্তমানে ইউরোপজুড়ে ডানপন্থি ও অতি ডান রাজনৈতিক দলগুলো অভিবাসন নীতি কঠোর করার আহ্বান জানাচ্ছে। ফলে ইতালির এই উদ্যোগ অনেক দেশেই ‘মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় আদালতের এই রায়ের পর সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা এল।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রান্টস