প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ১২:৩২ AM

সংগৃহীত ছবি
“রিকশা থেকে বিএমডব্লিউতে চড়লেন কীভাবে—এ প্রশ্ন এখন জনগণের”- এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তিনি বলেন, যারা এক সময় সাধারণ জীবনযাপন করতেন, আজ তারা বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েন। এই রূপান্তর নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক।
শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে হাবিব উন নবী বলেন, "এখানে আমাদের অনেক ভাইবোন আছেন যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। অনেকের শরীরে এখনও রাবার বুলেটের ক্ষতচিহ্ন আছে। শহীদদের পরিবারের সদস্যরা আজও কাঁদেন। অথচ তাদের জীবনে কোনো উন্নতি আসেনি। বিপরীতে, কিছু লোক সাধারণ জীবন থেকে হঠাৎ করেই বিলাসবহুল জীবনে পা রেখেছে। জনগণ জানতে চায়, কীভাবে এই রূপান্তর সম্ভব হলো?"
তিনি আরও বলেন, “একটি দলের এক নেতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বললেন, চাঁদাবাজ চাঁদাবাজ। আমরা বুঝলাম না কাকে বলছেন। পরে দেখি তাদের নিজেদের দলের নেতারাই একে অপরকে বিশ্ব চাঁদাবাজ বলছে। আমরা তো বলিনি। ঘরের খবর তো ঘরের লোকই ভালো জানে।”
সমাবেশে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে ছাত্র ও তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। যাত্রাবাড়ী থেকেই শুরু হয়েছিল সেই গণআন্দোলন। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে গিয়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার ছাত্র-যুবক প্রাণ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নবীউল্লাহ নবী অভিযোগ করেন, “এখন একটি গোষ্ঠী দাবি করছে, তারা একাই আন্দোলন করেছে। তাহলে বিএনপি, ছাত্রদল এবং অঙ্গসংগঠনের হাজারো কর্মী কোথায় ছিলেন? আমরা সবাই মিলে এই আন্দোলন করেছি। এখন কেউ একক কৃতিত্ব নিতে চাইলে সেটি ইতিহাস বিকৃতি ছাড়া কিছু নয়।”
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা, শহীদ পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা সবাই একমত হন যে, আন্দোলনের ইতিহাস কোনো গোষ্ঠীর একক সম্পদ নয়, এটি গোটা জাতির সংগ্রামের ফল।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর