
জবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ সাজিদ, আহত ও সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের উদ্যোগে ‘রক্তাক্ত জুলাই’র বীরত্বগাথা স্মরণে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ, জুলাইয়ের অগ্নিসন্তান এবং সাহসী সাংবাদিকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (০১ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের নিচতলায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ সাজিদ, ঢাকায় গুলিবিদ্ধ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী, আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, সাহসী সাংবাদিক, ‘আমরা জকসু চাই’ গ্রুপের অ্যাডমিন এবং ‘জবিয়ানস’ পেইজের অ্যাডমিনসহ জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অনিক কুমার দাস বলেন, “আজ সেই স্বৈরাচারী হাসিনা কোথায়? কোথায় তার দাম্ভিকতা? ছাত্র-জনতা সেই অহংকার ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। জুলাই-আগস্ট আমাদের শিখিয়েছে কিভাবে দরিদ্র কৃষক, দিনমজুর ভাইয়েরা রাজপথে নেমেছে। কিন্তু আজ সেই চেতনার নামে ভাগাভাগি, লুটপাট চলছে। আমরা চাই, যারা আন্দোলনে ছিলেন, সবাই যেন সেই জুলাইয়ের যৌথ উত্তরাধিকার বহন করেন।”
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের মুখ্য সংগঠক আবু বকর মজুমদার বলেন, “১৫ জুলাই ঢাবি ছাত্রলীগের হামলায় আহতদের বড় অংশই ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা অপেক্ষায় ছিলাম কখন তারা আসবে, আর তারা বিশাল মিছিল নিয়ে উপস্থিত হয়ে আমাদের প্রোগ্রামে দৃঢ়তা এনে দেয়। ঝামেলার সময় দেখা গেছে—জবির অনেক শিক্ষার্থী পথঘাট না চেনার কারণে বের হতে না পেরে আহত হয়েছেন।”
জাতীয় ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম স্মৃতিচারণ করে বলেন, “জুলাইয়ের উত্তাল সময়ে সচিবালয়, গুলিস্তান, জিরোপয়েন্ট—এই এলাকাগুলো ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নারী-পুরুষ একসাথে মিছিল করে সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। এই সরকার দাঁড়িয়ে আছে ছাত্রদের ত্যাগ, রক্ত এবং আন্দোলনের জোরে, কিন্তু সেই ছাত্রদের দাবি শোনে না, মূল্যায়ন করে না। রাজপথে নেমে যেই দেশপ্রেম আমরা দেখিয়েছি, সেই চেতনার ছোঁয়াও আমলাতন্ত্রের গায়ে লাগে না।”
অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আন্দোলনের স্মৃতি, এবং চলমান রাজনীতিতে ছাত্রদের ভূমিকাকে মূল্যায়নের দাবি।