
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই কমপক্ষে আরও ৮০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। একই দিনে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এ তথ্য জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে অপুষ্টিজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে, যার মধ্যে ৮৮ জনই শিশু। চলমান খাদ্য সংকটে গাজায় দুর্ভিক্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, খাদ্যের চরম সংকট এবং চিকিৎসাসেবার অভাবে শিশুরা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজা সিটি’র আল-শিফা হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, শিশু মোহাম্মদ ইব্রাহিম আদাস অপুষ্টিতে মারা গেছে, কারণ তার জন্য প্রয়োজনীয় ফর্মুলা দুধ পাওয়া যায়নি।
গাজা সরকারের গণমাধ্যম অফিস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ হাজার শিশু মৃত্যুর মুখোমুখি। কারণ, গত ১৫০ দিনে ইসরায়েল গাজায় শিশু খাদ্য প্রবেশ করতে দেয়নি।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ–এর প্রধান ফিলিপ ল্যাজারিনি বলেন, ‘মানুষজন যেন হেঁটে বেড়ানো লাশ- না বেঁচে আছে, না মরে গেছে।’
জাতিসংঘের একটি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘শুধু নিন্দা নয়, এখন জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, দুর্ভিক্ষ রোধ করা এবং বন্দিদের মুক্ত করা প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘গাজায় প্রকৃত অর্থেই দুর্ভিক্ষ চলছে এবং এর জন্য ইসরায়েল বড় ধরনের দায় বহন করে।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাউন্ডারিবিহীন খাদ্য কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যাতে সবার জন্য খাদ্য সহজলভ্য হয়।
ইসরায়েল কিছু এলাকায় সাময়িক হামলা স্থগিত এবং ত্রাণ প্রবেশে নতুন করিডোর খোলার ঘোষণা দিলেও জাতিসংঘ বলছে, এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
আল জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানান, ইসরায়েলি ঘোষিত ‘মানবিক বিরতি’ মূলত কয়েক ঘণ্টার জন্য সীমিত কিছু এলাকায় কার্যকর থাকে, এবং এতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ থাকে না।
গাজা সরকারের দাবি, ‘আমরা সব সীমান্ত ক্রসিং অবিলম্বে এবং শর্তহীনভাবে খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি, যাতে শিশু খাদ্যসহ জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ করতে পারে।’
সূত্র: আল জাজিরা
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম