
দেউন্দি চা বাগানে লাল শাপলার রূপে জেগে উঠছে নতুন পর্যটন সম্ভাবনা
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি চা বাগানের গভীরে অবস্থিত ‘শাপলা বিল’ এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। চা বাগানঘেরা বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঘন সবুজ অরণ্য আর লাল শাপলার মনোরম সমারোহ মিলিয়ে বিলটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে ‘শাপলার রাজ্য’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিদিনই শীতের শুরু থেকে শরৎ জুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শনার্থী শাপলার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে বিলটিতে ভিড় করছেন। ভোরের কোমল আলোর সঙ্গে মিলিত লাল শাপলার প্রাকৃতিক লালিমা চোখে এনে দেয় এক অন্যরকম প্রশান্তির অনুভূতি।
ভোর, কুয়াশা আর শাপলার রূপ - এক অনন্য অনুভূতি; শরতের আগমন থেকে শীতের প্রথম ভাগ পর্যন্ত ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পুরো বিলজুড়ে লাল শাপলার রঙিন কারুকাজ ভেসে ওঠে। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো চারপাশ, বাতাসে শীতল আমেজ আর নানান প্রজাতির পাখির কলতান মিলিয়ে বিলের পরিবেশ হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর।
শাপলা বিল দেখতে আসা পর্যটক ইশতাহমি জারা বলেন, “চুনারুঘাটে এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আছে - কখনো ভাবিনি। পাহাড়, আকাশ আর লাল শাপলার মিলন সত্যিই অপূর্ব। মনে হলো যেন প্রকৃতির মাঝে নতুন এক পৃথিবীতে এসে দাঁড়িয়েছি।” অসচেতন আচরণে শাপলার বিলের সৌন্দর্য হুমকির মুখে, তবে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে উদ্বেগও। অনেক দর্শনার্থী ছবি তোলা কিংবা বিনোদনের নামে শাপলার পাপড়ি ছিঁড়ে নষ্ট করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাগান শ্রমিকরা জানান, “এভাবে শাপলা তোলা চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বিলের সৌন্দর্য বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় প্রশাসনের উচিত সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করা।”
চুনারুঘাটের পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘শাপলা বিল’ দেউন্দির শাপলা বিলকে ঘিরে চুনারুঘাটে নতুন করে প্রাণ ফিরেছে পর্যটন খাতে। ইতোমধ্যে উপজেলার অন্যান্য জনপ্রিয় স্থান - সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, রেমা-কালেঙ্গা সংরক্ষিত বন, দমদমিয়া লেক, এসবের সঙ্গে শাপলা বিল যুক্ত হওয়ায় শীতকালে এ অঞ্চলে পর্যটকদের চাপ আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে চুনারুঘাট দেশের অন্যতম ইকো-ট্যুরিজম স্পটে পরিণত হতে পারে।
সংরক্ষণ ও নিরাপত্তায় প্রশাসনের উদ্যোগ জরুরি : শাপলা বিলের সৌন্দর্য রক্ষায় আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, শাপলা সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষা, পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট আচরণবিধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন, দিকনির্দেশনা বোর্ড স্থাপন, স্থানীয় যুবকদের সমন্বয়ে পর্যটন সহায়তা টিম গঠন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিলে এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যটন খাতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ